সালাম বিনিময় চালু হওয়ার ইতিহাস
প্রতিকী ছবি।
সালাম মুসলিম সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং একটি সুন্নত অভিবাদন। এক মুসলমান অপর মুসলমানকে সালাম জানালে, সে তার প্রতি শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের প্রার্থনা করে।
সালামের মাধ্যমে ব্যক্তির হৃদয়ের আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সৌহার্দ্য প্রকাশ পায়।
‘আস-সালাম’ শব্দটি আল্লাহ তায়ালার অন্যতম সুন্দর নাম, যার অর্থ—শান্তি ও নিরাপত্তার উৎস। যখন কেউ বলে, **"আস-সালামু আলাইকুম"**, তখন সে বলছে, “আল্লাহ তোমার ওপর শান্তি বর্ষণ করুন।” এর জবাবে বলা হয়, **"ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ"**, অর্থাৎ, “তোমার ওপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।”
হাদিস শরিফে সালামের সূচনা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“আল্লাহ তায়ালা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করে বলেন, যাও, ঐসব ফেরেশতাদের একটি দলের কাছে গিয়ে সালাম করো এবং শোনো তারা কীভাবে জবাব দেয়, সেটিই হবে তোমার এবং তোমার সন্তানদের সালামের নিয়ম।”
আদম (আ.) গিয়ে বললেন, “আসসালামু আলাইকুম।”
ফেরেশতারা বললেন, “ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬২২৭)
এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝা যায়, সালামের সূচনা মানব জাতির প্রথম পিতা আদম (আ.) থেকেই, এবং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি সম্মানজনক অভিবাদন পদ্ধতি।
পবিত্র কোরআনের সুরা নিসা’র ৮৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে—
“আর যখন কেউ তোমাদেরকে সালাম জানায়, তখন তোমরা তা আরও সুন্দরভাবে উত্তর দাও, অথবা অন্তত একইরকম জবাব দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের হিসাব রাখেন।” (সুরা নিসা, আয়াত: ৮৬)