বিএনপির সাংবাদিক হওয়ার দরকার নেই: আমীর খসরু

বিএনপির সাংবাদিক হওয়ার দরকার নেই: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির সাংবাদিক হওয়ার দরকার নেই। আপনারা দেশের সাংবাদিক হোন, বাংলাদেশের জনগণের সাংবাদিক হোন, মানুষের সাংবাদিক হোন। এটাই নতুন বাংলাদেশের প্রতিজ্ঞা।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) নগরীর জামালখানস্থ প্রেসক্লাব চত্বরে জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, সাংবাদিকতার নামে যারা স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ায়, তারা আসলে সাংবাদিক নয়। তারা প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে অবস্থান নেয়—তারা সাংবাদিকতার সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না, হয়ে গেছে দলীয় কর্মী। আমাদের যেন তাদের মতো না হতে হয়, সেটাও মাথায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ১৫ বছর ধরে সাংবাদিকতার বাস্তব চিত্র দেখেছি। কারা দেশের স্বার্থ বিক্রি করে সাংবাদিকতা করেছে, কারা ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের সঙ্গে থেকে সুবিধা নিয়েছে এবং সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতা ধ্বংস করেছে—সব দেখেছি। শেখ হাসিনার সময়ে অনেক সাংবাদিক প্রেস কনফারেন্স শেষে জনগণের কথা না তুলে স্বৈরাচারের পক্ষে সংবাদ পরিবেশন করেছে, তারা কি সাংবাদিক? তারা সাংবাদিকতার মান নষ্ট করেছে।

তারেক রহমানকে নিয়ে একটি কার্টুন প্রকাশের প্রসঙ্গ তুলে আমীর খসরু বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তারেক রহমান সাহেবকে বিদ্রুপ করে একটি কার্টুন ছাপানো হয়েছিল। সবাই ভেবেছিল সেই সাংবাদিক বিপদে পড়বে, কিন্তু হলো উল্টো। তারেক রহমান নিজেই স্ট্যাটাস দিলেন—‘আমরা দেড় দশক ধরে যুদ্ধ করছি, যাতে এই সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করতে পারে।’ এখানেই সব বার্তা স্পষ্ট।

দলীয় নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যে রাস্তায় ১৫ বছর ধরে ত্যাগ স্বীকার করেছি, সেই পথে যারা জীবন দিয়েছে, তাদের কোনো ছবি কোথাও নেই। ১০ হাজার বন্দির মধ্যে কয়েক হাজারকে ডিবি অফিসে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি নিজের চোখে দেখেছি—ডিবি অফিসে যাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাদের কেউ হেঁটে ফিরে আসেনি। তাদের শরীরে ছিল অত্যাচারের চিহ্ন, কান্নার সুর।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের মানুষের মানসিকতায় বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন আমরা যদি ধারণ করতে না পারি, তাহলে রাজনীতির ভবিষ্যৎ নেই। আগামী নতুন বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা কাজ করব।