গাজীপুরে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন দাবি তৃণমূলের
ফাইল ছবি
গাজীপুর সদর উপজেলার পিরোজালী ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে রোববার (১৭ আগস্ট)। সম্মেলনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
পদপ্রত্যাশীদের গণসংযোগের পাশাপাশি দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে চলছে নিবিড় যোগাযোগ। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, অতীতে যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছেন, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে নিজেকে জড়িয়ে সংগঠনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছেন তাদের যেন নেতৃত্বে আনা না হয়। সংগঠনের জন্য নিবেদিত ও ত্যাগীদের সংগঠনের নেতৃত্বের আসনে দেখতে চান তারা।
জানা গেছে, রোববার (১৭ আগস্ট) বিকেলে পিরুজালী এলাকার স্থানীয় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ- স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। সভাপতিত্ব করবেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের মুসল্লি। সম্মেলন সফল করতে সামিয়ানা টানানোসহ সব
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে নাজিম ব্যাপারী, হাবিব ব্যাপারী, আব্দুস সামাদ ও মোনায়েম ও সদস্য সচিব হিসেবে ডি এম আজাহার, আব্দুল আলীমসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে কয়েকজন রয়েছেন বিতর্কিত প্রার্থী। তারা বলছেন, ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা কমিটিতে আসলে সংগঠন শক্তিশালী হবে, আপামর জনসাধারণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
নেতাকর্মীদের দাবি, মনিপুর এলাকায় স্থানীয় ইউনিসেন্স অ্যাপারেলস কারখানার মালামাল ভর্তি ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাজিম ব্যাপারী ও সাধারণ সম্পাদক ডি এম আজাহারসহ কয়েকজন। বিষয়টি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে , ঘটনার পর গেল বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তাদের দু’জনকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা বিএনপি। অবশ্য চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তাদের অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়।
এ ব্যাপারে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের আগে নাজিম ব্যাপারী আমাদের মূল্যায়ন করেনি, আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গেই তার উঠাবসা বেশি ছিল। আমাদের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তার কোনো সমন্বয় ছিল না। এখন জেলা বিএনপির নেতারা কমিটি গঠন করবেন, তারা সব দিক বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।
৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর মোল্লা বলেন, আমরা দলের জন্য নিবেদিত এমন নেতা চাই। ৫ আগস্টের আগে যাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, চাঁদাবাজির অভিযোগে দল যাদের বহিষ্কার করেছে এমন নেতাদের পুনরায় কমিটিতে আসুক এটা আমরা চাই না।
৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ মাস্টার বলেন, নাজিম ব্যাপারীকে বিভিন্ন অভিযোগে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল, বিভিন্ন দেন দরবার করে তিনি পুনর্বহাল হয়েছেন। আমরা আগামীর কমিটিতে বিতর্কিতদের দেখতে চাই না
এ ব্যাপারে নাজিম ব্যাপারী আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে তার সখ্যতা অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল তা ভিত্তিহীন হওয়ায় দল আমাকে পুনর্বহাল করেছে।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্রে কাউকে অব্যাহতি দিয়ে দ্রুত সময়ে আবার কমিটিতে পুনর্বহাল নিয়ে সমস্যা নেই। তবে বিতর্কিতদের বিষয়ে বিএনপি হাইকমান্ডের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।