ইউক্রেনের আরও দুটি গ্রাম দখল করলো রাশিয়া
সংগৃহীত
আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কয়েক ঘন্টা পরেই ইউক্রেনের আরও দুটি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে মস্কো।
শনিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাশিয়ান বাহিনী পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট, লাইম্যান শহরের প্রায় ১২ কিলোমিটার (৭.৪ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত কোলোদিয়াজি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, আরও এক কৌশলগত শহর ভেলিকা নোভোসিলকা থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার (১৫ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলের ভোরোন গ্রামের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে রুশ বাহিনী।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাশিয়া দোনেৎস্ক অঞ্চলের ভেলিকা নভোসিলকা দখল করার দাবি করে। শহরটি ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়ার দাবির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে শনিবার সকালে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ দাবি করেছেন, রাশিয়ান বাহিনী লাইম্যান ফ্রন্টের কোলোদিয়াজিসহ পাঁচটি গ্রামে ২১টি আক্রমণ চালিয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকে বসেছিলেন। কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী এ বৈঠককে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প।
তবে বৈঠক শেষে কোনো ধরনের চুক্তি বা যুদ্ধ থামানোর ঘোষণা আসেনি। ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে সেটির মাধ্যমে চুক্তি করা সম্ভব। তবে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইউক্রেন এবং ইউরোপকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন দুই নেতা। সেখানে পুতিনকে প্রথমে কথা বলতে দেন ট্রাম্প। এরপর কথা বলা শুরু করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, তারা দুই দেশ এ বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। কিন্তু কোন কোন বিষয়ে সেটি স্পষ্ট করেননি তিনি।
পুতিন বলেন, যদি দীর্ঘস্থায়ী কোনো চুক্তি করতে হয় তাহলে যে সমস্যার কারণে তিনি ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছেন সেই সমস্যার মূল উৎপাটন করতে হবে।
এছাড়া এই আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার আভাসও দিয়েছেন পুতিন। তিনি বলেন, আমি মনে করি আজকের বৈঠক শুধুমাত্র ইউক্রেন সমস্যা সমাধানের শুরু নয়, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ব্যবসায়িক ও বাস্তবসম্মত সম্পর্ক ফিরিয়ে আনবে।
সূত্র: আনাদোলু