ইয়েমেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
ছবিঃ সংগৃহীত।
ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হুথি-সম্পৃক্ত আল মাসিরাহ টিভি শনিবার (১৬ আগস্ট) জানিয়েছে, এই ‘আগ্রাসনে’ হেজইয়াজ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সানার বাসিন্দারাও অন্তত দুইটি জোরালো বিস্ফোরণ শোনার কথা জানিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছ।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই স্থানটি হুথি যোদ্ধারা ব্যবহার করে আসছে।
কিন্তু তারা একটি বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানার যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হাজির করেনি, যা এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করার আশঙ্কা তৈরি করছে।
রবিবার ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী বলেছে, এই আক্রমণটি বারবারের হুথি হামলার সরাসরি জবাব ছিল, যার মধ্যে ইসরায়েলের দিকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন অন্তর্ভুক্ত।
ইয়েমেনের উপপ্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, জরুরি কর্মীরা আরও ক্ষতি প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছেন। কারণ বিস্ফোরণের পর বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন ধরে যায়।
২০২৩ সাল থেকে হুথিরা গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার জবাবে বারবার ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলও ইয়েমেনের অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা বোমা হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া হুথিরা ব্যবহার করে এমন অভিযোগে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের দিকে নিক্ষিপ্ত অধিকাংশ হুথি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এই পাল্টা হামলা গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলের আঞ্চলিক প্রভাবকে আরও বিস্তৃত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যও ইয়েমেনে বোমা হামলা চালিয়েছে। কারণ হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে যাতায়াত করা ইসরায়েল-সম্পর্কিত জাহাজে আক্রমণ করেছে। ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং গাজা অবরোধের প্রতিশোধ নিতে সাগরে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা।
তবে মে মাসে হুথিদের সঙ্গে আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বোমা হামলা বন্ধের বিনিময়ে লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত জাহাজে হুথি হামলা বন্ধ করা হয়। তবে হুথিরা জোর দিয়ে বলেছে, এই চুক্তি তাদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।