প্রতিদিন যে সূরা পাঠে সারাদিন মন ভালো থাকবে

প্রতিদিন যে সূরা পাঠে সারাদিন মন ভালো থাকবে

প্রতিদিন যে সূরা পাঠে সারাদিন মন ভালো থাকবে। ছবিঃ সংগৃহীত

মন ভালো না থাকলে কোরআন পাঠ করুন, মন ভালো হয়ে যাবে। হৃদয়-মন প্রশান্ত হবে। কোরআন তিলাওয়াত আত্মার খোরাক। কোরআন তিলাওয়াতে ঈমান বৃদ্ধি পায়। ইলমি আমলি ও হেদায়েতি জীবন যাপনে কোরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি। বিশেষ করে কিছু সুরা আছে যেগুলোর তিলাওয়াতে সওয়াব ও ফজিলত অতুলনীয়। এর মধ্যে সুরা ইয়াসিন উল্লেখযোগ্য।

কোরআনুল করিমের মোট ১১৪ টি সুরার একটি সুরার নাম ইয়াসিন। সুরার ধারাবাহিকতায় এটি কোরআনের ৩৬ নম্বর সুরা। কোরআনের অন্যান্য আয়াত তিলাওয়াত করলে প্রতিটি অক্ষরে সওয়াব পাওয়া যায়। এই সুরা তিলাওয়াতে রয়েছে অসাধারণ ফজিলত।

ইয়াহইয়া ইবনে কাসির রহ. বলেন, যে ব্যক্তি সকালে (বাদ ফজর) সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-স্বস্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে (মাজহারি)। যারাই সুরা ইয়াসিন পাঠ করে, সারাদিন তাদের ভালো কাটে। অনেককেই বলতে শোনা যায়, যারা নিয়মিত সুরা ইয়াসিন সকালে পাঠ করে, একদিন পাঠ না করলেই বলে, ওহ আজ সুরা ইয়াসিন টা পাঠ করিনি। বাস্তবাতাও টের পাওয়া যায়। আপনি কয়েকদিন পাঠ করেন, ইনশাআল্লাহ সারাদিন মনে সুকুন মিলবে। আত্মিক ভালোলাগা কাজ করবে। 

হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত এসব ফজিলত। হাদিসে রয়েছে ‘প্রত্যেক বস্তুর একটি হৃদয় রয়েছে, আর কোরআনের হৃদয় হচ্ছে ‘সুরা ইয়াসিন’। যে ব্যক্তি ‘ইয়াসিন’ পড়বে আল্লাহ তার আমলনামায় দশবার পূর্ণ কোরআন পড়ার নেকি দান করবেন। (তিরমিজি ২৮৮৭)

ইমাম তিরমিজি রহ. হাদিসটি বর্ণনার পর নিজেই হাদিসটির মান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এটির মান দুর্বল হলেও আমলে কোনো বাধা নেই।

হজরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাতে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তার ওই রাতের সব গোনাহ মাফ করে দেবেন। (দারেমি)

হজরত ইবনে ইয়াসার রা. বর্ণনা করেছেন রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তাআলা তার বিগত জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। (বায়হাকি,আবু দাউদ)

ইমাম গাজ্জালী রহ. এ প্রসঙ্গে বলেন, সুরা ইয়াসিনকে কোরআনের হৃদয় এ কারণে বলা হয়েছে, এ সুরায় কেয়ামত ও হাশর-নশর বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা ও অলঙ্কারসহকারে বর্ণিত হয়েছে। 

পরকালে বিশ্বাস ঈমানের এমন একটি মূলনীতি, যার ওপর মানুষের সব আমল ও আচরণের বিশুদ্ধতা নির্ভরশীল। পরকালের ভয়ভীতি মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অবৈধ বাসনা ও হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে। তাই দেহের সুস্থতা যেমন অন্তরের সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল তেমনি ঈমানের সুস্থতা পরকালের চিন্তার ওপর নির্ভরশীল (রুহুলমায়ানি)।

সুরা ইয়াসিন ১০ বার পাঠে কোরআন খতমের সমান সাওয়াবের ফজিলত সংক্রান্ত যে হাদিস এসেছে, এর সনদ জয়িফ বা দুর্বল হলেও সুনানে তিরমিজিতে এ হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। আমলের জয়িফ হাদিসের উপর আমল করাতে কোনো সমস্যা নেই। আমল যত করা হয় তার ততই সওয়াব রয়েছে। তাই মুহাদ্দিসে কেরাম আমলের দুর্বল হাদিসগুলো সম্পর্কে বলেছেন, এগুলোর উপর আমল করাতে কোনো সমস্যা নেই।

বলার অপেক্ষা রাখে না, কোরআনে কারিমের প্রতিটি সুরা, প্রতিটি আয়াতের রয়েছে নিজস্ব হেদায়েত, শিক্ষা, বিধান ও ঈমানি ও আমলি বহু ফায়দা ফজিলত। তাই এসব ফায়েদা অর্জনের জন্য কোরআনের সব সুরা ও আয়াত তিলাওয়াত করা অত্যাবশ্যক।