৩৯৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

৩৯৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

সংগৃহীত ছবি

প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকট নিয়ে চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। শতকরা হিসেবে প্রায় ৩৫ ভাগ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক কম রয়েছে গড়ে প্রায় সাত ভাগ। এতে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এক হাজার ১০৫টি। এর মধ্যে ৩৯৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সহকারী  শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৪৭৭টি। জেলার এক হাজার ১০৫টি বিদ্যালয়ে সমান সংখ্যক প্রধান শিক্ষক ও ছয় হাজার ৫৭৭ জন সহকারী শিক্ষক থাকার কথা। তবে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ৭০৮ জন ও সহকারী শিক্ষক রয়েছেন ছয় হাজার ১০০ জন।

সূত্র জানায়, সদর উপজেলায় ১২৯টির মধ্যে ৫৪টিতে, নবীনগর উপজেলায় ২১৯টির মধ্যে ৯০টি, কসবায় ১৬৩টির মধ্যে ৪৮টি, সরাইলে ১২৬টির মধ্যে ৪৯টি, বাঞ্ছারামপুর ১৩৯টির মধ্যে ৩৬টি, আখাউড়া ৫৪টির মধ্যে ১৯টি, নাসিরনগরে ১২৬টির মধ্যে ৩৩টি, আশুগঞ্জে ৪৯টির মধ্যে ২২টি ও বিজয়নগর উপজেলায় ১০০টির মধ্যে ৪৬টিতে প্রধান শিক্ষক নেই।

 

এছাড়া সদর উপজেলায় ১৭টি, নবীনগর উপজেলায় ৯৯টি, কসবায় ১০০টি, সরাইলে ৫৯টি, বাঞ্ছারামপুর ৬৭টি, আখাউড়া ১৯টি, নাসিরনগরে ৪৪টি, আশুগঞ্জে ২৭টি ও বিজয়নগর উপজেলায় ৪৮টিতে সহকারি শিক্ষক নেই।

২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান ২৫৫ জন। কয়েক মাস আগে জেলায় ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) থেকে প্রধান শিক্ষক পদে দুইজনের জন্য সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে একজন যোগ দিয়েছেন,  অন্যজন যোগ দেননি।

মূলত দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ না হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের সংখ্যা বাড়ছে।

আখাউড়ার নয়াদিল গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন জলিল জানান, তার গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রধান শিক্ষক নেই। একজন সহকারী শিক্ষক ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে মাঝে মাঝে দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকতে হয় বলে সমস্যা হচ্ছে।

নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়ের ৩৬৪ শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন পাঁচজন। একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকের পদ খালি থাকায় পাঠদান কঠিন হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাসিরনগর সদরের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, তাদের বিদ্যালয়ে এমনিতেই শিক্ষক সংকট রয়েছে। তার ওপর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে একজন শিক্ষককে এনে কাজ করানো হয়। এতে বিদ্যালয়ের পড়ালেখায় সমস্যা হচ্ছে।

সদর উপজেলার দামচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক খালেদ হাসান জানান, বিদ্যালয়টি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬০ জন। প্রধান শিক্ষকের পদ দুই বছর ধরে শূন্য। একজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আখাউড়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হাসনাৎ মো. জহিরুল ইসলাম ভূঞা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। আখাউড়া উপজেলার ১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষক এ দায়িত্ব পালন করছেন।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান বুধবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৩৯৭ জন প্রধান শিক্ষক ও ৪৭৭ জন সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। সহকারী শিক্ষক পদে ইতোমধ্যেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদেও নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলে জানি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক নেই-এমন বিদ্যালয়গুলো চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কেননা, প্রধান শিক্ষককে প্রায় সময়ই দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকতে হয়। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক কম থাকায়ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।