জেনেভা ক্যাম্পে গোয়েন্দা কর্মীর ওপর হামলা, সেনা অভিযানে গ্রেফতার ১১

জেনেভা ক্যাম্পে গোয়েন্দা কর্মীর ওপর হামলা, সেনা অভিযানে গ্রেফতার ১১

ছবি : প্রতীকি

‎রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি বুনিয়া সোহেল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী গোয়েন্দা কর্মীর ওপর হামলা করে। এ ঘটনার পরপরই জেনেভা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হামলার সাথে জড়িত জেনেভা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান গোলাম জেলানীসহ এগারো জনকে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী। এ সময় ৫ হাজার ৬৬০ পিস ইয়াবা, ৫০০ গ্রাম গাঁজা, তিনটি সামুরাই, দুটি চাপাতি, মাদক বিক্রির ৪৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

‎মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে বিশেষ এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

‎গ্রেফতার হওয়া অন্যরা হলেন- মিঠুন, ইমরান, বাবু, মিজানুর রহমান, সুজন, দিপু, সাকিব, রবিন, মাসুম ও রমজান।

‎এদের মধ্যে জেনেভা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম জেলানি মোহাম্মদপুর থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন বলে জানা যায়।

‎আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর দুইটায় মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি বুনিয়া সোহেল এর উপস্থিতি দেখা যায়। এসময় বুনিয়া সোহেলকে খুঁজতে গেলে তার দলের সদস্যরা একজন গোয়েন্দা কর্মীর উপর হামলা করে। এতে গোয়েন্দা কর্মী মাথায় আঘাত পায়। এই খবর পেয়ে একটি সেনা টহল দ্রুত ওই স্থানে গিয়ে গোয়েন্দা কর্মীকে উদ্ধার করে এবং দ্রুত অভিযান চালায়। গোয়েন্দা কর্মীর ওপর হামলার সাথে সম্পৃক্ততা থাকায় হাতেনাতে ৬ জনকে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৮টায় পুনরায় জেনেভা  ক্যাম্পে সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করে।

‎এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে আজ দুপুরে দেখা গেছে বলে আমাদেরকে জানানো হলে তাকে গ্রেফতার করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আমাদের একজন গোয়েন্দা কর্মী মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আহত হয়। ওই সময় পরপর দুটি অভিযানে মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং ৫৬০০ পিসের মতো ইয়াবা ও কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে অনেক তল্লাশির পরও বুনিয়া সোহেলকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মাদকের সাথে জড়িত ৪ জন আসামিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আর হামলার সাথে জড়িত ৭ জন আসামিকে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে।

‎তিনি আরও জানান, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে সেনাবাহিনীর এই শক্ত অবস্থান বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে।