চীন সফরের প্রাক্কালে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা পুতিনের
ফাইল ছবি।
রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বেইজিং সফরের প্রাক্কালে চীন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পশ্চিমাদের বৈষম্যমূলক নীতির বিরোধিতা করা হয়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াতে শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত এক লিখিত সাক্ষাৎকারে যৌথ বিবৃতির কথা উল্লেখ করেন পুতিন।
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন পুতিন। এই সফরকে ক্রেমলিন ‘নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছে।
সফরের শুরুতে উত্তরাঞ্চলীয় তিয়ানজিন শহরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) দুই দিনের সম্মেলনে অংশ নেবেন রুশ প্রেসিডেন্ট। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এসসিও বর্তমানে ভারত ও ইরানসহ ১০টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে নিরাপত্তা ইস্যুভিত্তিক একটি জোটে পরিণত হয়েছে। এরপর বেইজিংয়ে বৈঠকে বসবেন শি-পুতিন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ স্মরণে চীনে আয়োজিত বার্ষিক সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন রুশ প্রেসিডেন্ট। এর আগে মে মাসে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে মস্কোতে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছিলেন শি। ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে সেটি ছিল তার প্রতিবেশী দেশে একাদশতম সফর।
২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলো একাধিক ধাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিচুক্তি প্রচেষ্টার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে মস্কোর ওপর আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পুতিন বলেন, আমাদের দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং শিল্পখাতে অংশীদারিত্ব বহু ক্ষেত্রে এগিয়ে চলছে। আমার আসন্ন সফরে পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করব।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক তিক্ত হতে শুরু করলে হলে রাশিয়ার প্রধান বাণিজ্য সহযোগী হয়ে ওঠে চীন। রাশিয়ার জ্বালানি তেল এবং গাড়ি থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক পণ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ২০২৪ সালে ২৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। লেনদেনের বেশিরভাগই রুবল এবং ইউয়ানে হয়েছে।
পুতিন জানান, চীনে তেল ও গ্যাসের অন্যতম সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া। বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমাতে দুই দেশ যৌথ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে শূকর ও গরুর মাংস রফতানি শুরু হয়েছে। কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্য চীনের বাজারে রুশ রফতানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করে আছে।
পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে চীনের সমর্থনের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ উল্লেখ করেননি। চীন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২২ সালে পুতিন ও শি সীমাহীন কৌশলগত অংশীদারত্ব ঘোষণা করেছিলেন। গত এক দশকে তারা ৪০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ করেছেন। শিশুদের অবৈধভাবে ইউক্রেন থেকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখে থাকা পুতিনের এটি চীনে দ্বিতীয় সফর।