কৌশল বদলে সমুদ্রে পারমাণবিক দাপট দেখাচ্ছে উত্তর কোরিয়া
ফাইল ছবি।
সাবমেরিন প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এবার সমুদ্রপৃষ্ঠে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে ঝুঁকেছে উত্তর কোরিয়া।সম্প্রতি দেশটির নতুন ৫ হাজার টন ওজনের ডেস্ট্রয়ার ‘চোয়ে হিউন’ থেকে একাধিক কৌশলগত ক্রুজ মিসাইল ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
কিম জং উনের উপস্থিতিতে এই পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার নৌ-শক্তির এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, পশ্চিম উপকূলে পরিচালিত এই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
ক্রুজ মিসাইলগুলো প্রায় দুই ঘণ্টা এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আধা ঘণ্টা ধরে নির্দিষ্ট পথে উড়ে তাদের কার্যক্ষমতা প্রমাণ করেছে। মূলত জাহাজের সমন্বিত অস্ত্র কমান্ড সিস্টেম এবং উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থার নির্ভুলতা যাচাই করতেই এই বিশেষ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ‘চোয়ে হিউন’ বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে আধুনিক এবং শক্তিশালী রণতরী। প্রায় ১৪৪ মিটার দীর্ঘ এই ডেস্ট্রয়ারে রয়েছে ৪৪টি ভার্টিক্যাল লঞ্চ সেল, যা থেকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া যায়।
এ ছাড়াও এতে ৩০টি বড় আকারের সেল রয়েছে যা ক্রুজ মিসাইল বা ব্যালিস্টিক মিসাইল বহনে সক্ষম। রুশ প্রযুক্তির ছোঁয়া থাকা এই জাহাজে রাশিয়ার তৈরি 'প্যান্টসির-এম' আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নৌ-বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিন কর্মসূচি বা ‘হিরো কিম ওকে’ প্রকল্প এখনো প্রযুক্তিগতভাবে অপরিপক্ক। সাবমেরিনের উচ্চ শব্দ এবং ধীরগতির কারণে সেগুলো শত্রুপক্ষের রাডারে সহজেই ধরা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এই দুর্বলতা ঢাকতেই ‘চোয়ে হিউন’-এর মতো শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ারকে সামনে আনা হয়েছে। এটি সমুদ্রের বুক থেকে দ্রুত পাল্টা আঘাত হানার এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে, যতক্ষণ না তাদের সাবমেরিন প্রযুক্তি পূর্ণতা পায়।
কৌশলগতভাবে এই উন্নয়ন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কমান্ড কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে পারে। সাধারণত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কিম জং উন নিজের হাতে রাখলেও সমুদ্রগামী এই ডেস্ট্রয়ারের ক্রুজ মিসাইলগুলোর ক্ষেত্রে হয়তো ফ্রন্টলাইন কমান্ডারদের সীমিত এখতিয়ার দেওয়া হতে পারে। এর ফলে যুদ্ধের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হলেও, ভুল বোঝাবুঝি বা আকস্মিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।