ভিডিওকলে ফরিদা পারভীনের শেষ শ্রদ্ধায় রুনা লায়লা
ছবি: সংগৃহীত
গতকাল শনিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন লালন সম্রাজ্ঞী খ্যাত কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য গায়িকার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়। বৃষ্টিতে ভিজে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে হাজির হন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং ভক্ত-অনুরাগীরা।
প্রয়াত সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ভিডিওকলের মাধ্যমের যুক্ত হন দেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় ভিডিওকলের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জোহর নামাজের পূর্বে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জানাজা শেষে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে ফরিদা পারভীনের মরদেহ বহনকারী গাড়ি। জানা গেছে, কুষ্টিয়ায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে কুষ্টিয়ার পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই লিভারের রোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন ফরিদা পারভীন। গত ২ সেপ্টেম্বর ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। গায়িকার শারীরিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপ হতে থাকলে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটা থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
১৯৬৮ সালে তিনি রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালের দিকে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সাধক মোকসেদ আলী শাহের কাছে লালন সংগীতের তালিম নেন ফরিদা পারভীন।
সংগীতাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান তিনি। ২০০৮ সালে তিনি জাপান সরকারের পক্ষ থেকে ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে সেরা প্লে-ব্যাক গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান।