চাকসু নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর চবি, দ্বিতীয় দিনে মনোনয়ন নিলেন ১৪১ প্রার্থী

চাকসু নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর চবি, দ্বিতীয় দিনে মনোনয়ন নিলেন ১৪১ প্রার্থী

ফাইল ছবি

৩৪ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে ক্যাম্পাস। মনোনয়নপত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা। দুই দিনে মোট ১৬৯ জন শিক্ষার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে দ্বিতীয় দিনেই অংশ নিয়েছেন ১৪১ জন।

 

প্রথম দিনের (১৪ সেপ্টেম্বর) তুলনায় দ্বিতীয় দিন (১৫ সেপ্টেম্বর) মনোনয়নপত্র সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম দিন (১৪ সেপ্টেম্বর) মোট ২৮ জন প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২৬ জন, হল সংসদের জন্য ২ জন।

দ্বিতীয় দিন (১৫ সেপ্টেম্বর) উৎসবমুখর পরিবেশে মোট ১৪১ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদ: ৭১ জন, হল সংসদ: ৭০ জন (ছাত্রী হলে ৪৫, ছাত্র হলে ২৫ জন)। দুই দিনে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ১৬৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্যানেল

নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ছাত্ররাজনীতির বিভিন্ন সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। এখন পর্যন্ত যেসব প্যানেল বা সংগঠন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত:

ছাত্রদল: এককভাবে মনোনয়ন নিয়েছে; পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা প্রক্রিয়াধীন।

ছাত্রশিবির: এখনো মনোনয়ন নেয়নি; তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্যানেল প্রায় চূড়ান্ত।

ছাত্র অধিকার পরিষদ: ‘চাকসু ফর র‌্যাপিড চেঞ্জ’ নামে প্যানেল ঘোষণা করতে যাচ্ছে।

ইসলামি ছাত্র আন্দোলন: ‘সচেতন শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে প্যানেল তৈরি করছে।

ছাত্র ইউনিয়ন–ছাত্রফ্রন্ট: যৌথভাবে ‘দ্রোহ পর্ষদ’ নামে প্যানেল দিয়েছে।

ইসলামী ছাত্র মজলিস: অন্তর্ভুক্তিমূলক প্যানেল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ: এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

স্বতন্ত্র প্যানেল: রাশিদুল হক দিনার ও মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে প্যানেল ঘোষণা হতে পারে।

সব মিলিয়ে অন্তত ৮টির বেশি প্যানেল এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোটার সংখ্যা ও গবেষকদের অন্তর্ভুক্তি

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবারের চাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭,৬৩৪ জন।

এর মধ্যে এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষক রয়েছেন ৩৪৮ জন (এমফিল ২২২, পিএইচডি ১২৬)। তারা শুধুমাত্র ভোটারই নন, প্রার্থী হওয়ারও সুযোগ পাচ্ছেন—যা এই নির্বাচনের একটি ব্যতিক্রমী দিক।

নির্বাচনি তফসিল:

-মনোনয়নপত্র জমা: ১৭ সেপ্টেম্বর

-প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর

-মনোনয়ন প্রত্যাহার: ২৩ সেপ্টেম্বর

-চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর

-ভোটগ্রহণ: ১২ অক্টোবর (সকাল ৯টা – বিকেল ৪টা)

-ভোট হবে ওএমআর পদ্ধতিতে

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, ‘পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে আমরা উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করছি। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শতভাগ স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীবান্ধব নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’