তিন মাস ধরে বন্ধ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
সংগৃহীত ছবি
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় দীর্ঘ তিন মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে নরসিংদীর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ বছর জুন মাস থেকে কেন্দ্রটিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়, যার ফলে ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ইউনিট বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হক।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ১টি এবং ১৯৭৪ সালে আরও ১টি ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। পরে একে একে ৭টি ইউনিট স্থাপিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই কেন্দ্রের ৭টি ইউনিট সচল থাকলে সর্বমোট ১,৩৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১, ২ এবং ৬ নম্বর ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ইউনিট থেকে ৬৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো।
এ বছর ১৪ জুন থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন একে একে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে এবং সরকার ও শ্রমিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কেন্দ্রের শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছিল এশিয়ার বৃহত্তম। জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১,৩৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু এখন ইউনিটগুলো গ্যাসের অভাবে বন্ধ। পার্শ্ববর্তী পলাশ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে গ্যাস বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ না হলে ইউনিটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নরসিংদীর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, তিনটি ইউনিটে মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে ৬৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এছাড়া বিকল্পভাবে গ্যাস সরবরাহের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক হবে।