শ্রীলঙ্কার জয়ে শেষ চারে বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কার জয়ে শেষ চারে বাংলাদেশ

সংগ্রহীত ছবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : লড়াইটা ছিল আবুধাবিতে, লড়ছিল শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান। গতকাল বাংলাদেশ দল তখন দুবাইয়ের টিম হোটেলে। থেকে যেতে হবে, নাকি বাড়ির পথ ধরতে হবে, সেই অপেক্ষায় ছিলেন লিটন দাসরা। তবে চোখ ছিল ওই ম্যাচের দিকেই।

কারণ ভাগ্য যে ঝুলে ছিল সেখানেই। সেই ভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষেই গেছে। লঙ্কানরা আফগানদের হারানোয় তাদের যেমন সুপার ফোর পর্ব নিশ্চিত হয়েছে, তেমনি সঙ্গী হয়েছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরাও। অর্থাৎ শঙ্কা কাটিয়ে পরের পর্বের টিকিট পেয়েছেন লিটনরা।

এতে এখনই আর ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে না তাঁদের।

শ্রীলঙ্কার জয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ দলের সুপার ফোর পর্ব নিশ্চিত হওয়ার পর ধারাভাষ্যকার রাসেল আর্নল্ড বলেছেন, ‘শুধু কলম্বোতেই উল্লাস চলছে না; এই মুহূর্তে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটেও উল্লাস হচ্ছে।’

তিনটি টেস্ট খেলুড়ে দল নিয়ে গড়া ‘বি’ গ্রুপ থেকে বাদ পড়েছে আফগানরা। বাংলাদেশ সে লড়াইয়ে টিকে গেলেও সামনে আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

ফাইনালে ওঠার প্রতিযোগিতায় সুপার ফোর পর্বে বাকি তিনটি দলের বিপক্ষে খেলতে হবে লিটনদের; যেখানে আগামী শনিবার আবার প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে। পরের দুই ম্যাচ ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে, আগামী বুধবার ও বৃহসপতিবার।

সুপার ফোর পর্বে ওঠায় যেমন প্রতিযোগিতায় টিকে রইল বাংলাদেশ, তেমনি আরেকটি লাভও হয়েছে দলের। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ২ অক্টোবর থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একটি ওয়ানডে এবং সমান তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টির সূচি রয়েছে। গতকাল শ্রীলঙ্কা হারলে দেশে ফিরে এবারও সে দেশে যেতে হতো লিটনদের।

এশিয়া কাপের পরের পর্বে ওঠায় ভ্রমণের ঝক্কি অবশ্য পোহাতে হবে না ক্রিকেটারদের।

যদিও গতকাল ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশ থেকে টুর্নামেন্ট কাভার করতে যাওয়া এক সাংবাদিক দ্রুত দেশে ফিরতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। আবুধাবির উইকেটে আগে ব্যাট করে ১৭০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়ার পর সুবিধাজনক অবস্থানেই ছিল আফগানিস্তান। ম্যাচ শেষে দলটির অধিনায়ক রশিদ খান একই কথা বলেন, ‘এটা সাধারণ আবুধাবির উইকেটের মতো ছিল না। তবে যতটা ভালো বোলিং করা উচিত ছিল, সেটা আমরা করতে পারিনি। উইকেটটা বেশ কঠিন ছিল।’

টুর্নামেন্টের শুরুতে ক্রিকেটবোদ্ধাদের অনেকেই ‘বি’ গ্রুপ থেকে আফগানদের সুপার ফোরের দৌড়ে রেখেছিল। হংকংকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শুরুটাও ছিল বেশ দাপুটে। তবে শেষের অঙ্ক মেলাতে পারেননি রশিদরা। বাংলাদেশের কাছে হারের পর গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও একই পরিণতি তাঁদের। অধিনায়ক রশিদও এমন প্রত্যাশা করেননি, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টের জন্য দারুণ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কঠোর পরিশ্রম করেছি, অনুশীলন করেছি। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা সেমিফাইনালে খেলেছি। এখানে অন্তত আমরা ভেবেছিলাম পরের রাউন্ডে উঠতে পারব।’

অথচ শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত শেষ চারের টিকিট পেয়েছেন লিটনরা।