হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে যে কারণে ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত
যেকোনো মূল্যে দেশের মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা আসন্ন রমজানে খাদ্যদ্রব্যের দাম সহনীয় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, এ বিষয়ে যেকোনো নীতিগত সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তুত।
সোমবার বৈঠক শেষে শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর প্রতিনিধিরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, দেশের বর্তমান ভোগ্যপণ্য মজুত, আমদানির প্রয়োজনীয়তা ও সরবরাহ জটিলতা নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি চান, আমদানি বাড়লেও যেন মূল্যস্ফীতি না বাড়ে। এজন্য বাজার বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন গভর্নর।
নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুল ইসলাম স্বপন বলেন, বৈঠকে এলসি জটিলতা, ভোগ্যপণ্যের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে গভর্নর যেকোনো সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, রমজানে খাদ্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাছির বলেন, ডলার বাজার দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল আছে। বর্তমানে ডলারের ঘাটতি নেই। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক চাচ্ছে রিজার্ভ ধরে রেখে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে নামাতে এবং একইসঙ্গে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হলে সম্ভব হবে না। এজন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে, যাতে বাজার পরিস্থিতি ও সমস্যাগুলো বোঝা যায় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। জনপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে ব্যাংকে ডলার সংকট নেই। বরং কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাজার থেকে ডলার কিনছে। এখন যদি পণ্য আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ডলার সংকট দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এলসি খোলায় কোনো বাধা নেই, প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি সহায়তা দেবে।