বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা হাতের নাগালে
সংগ্রহীত ছবি
দেশের বেশ কিছু প্রথম সারির স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ঘিরে। রোগীর সুরক্ষা ও যত্নে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, মানবিক মনোভাব ও টেকসই ব্যবস্থাপনা কোনো কিছুরই যেন কমতি নেই। স্বাস্থ্যসেবার বৈশ্বিক মান জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) স্বীকৃতিও রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের। এর একটি হলো ‘এভারকেয়ার’ হাসপাতাল।
অন্যটি হলো ‘ইউনাইটেড’ হাসপাতাল। এভারকেয়ার হাসপাতালের অবস্থান বসুন্ধরার ভেতরে। আর ইউনাইটেড হাসপাতালের অবস্থান বসুন্ধরা থেকে দূরত্ব মাত্র কয়েক মিনিটের।
জেসিআই স্বীকৃতি হলো একটি হাসপাতালের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার প্রতিফলন।
হাসপাতালে রোগীদের সেবাদানের জন্য উচ্চমান ও নিরাপদ যত্ন প্রদানে তাদের প্রতিশ্রুতির একটি প্রমাণ। স্বাস্থসেবার জন্য যেসব মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য বিকল্প হতে পারে এ হাসপাতাল দুটি।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আধুনিক এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য বেশ কয়েকটি উদ্যোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নির্মাণাধীন বসুন্ধরা মেডিক্যাল সিটি, আফরোজা বেগম ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বিনামূল্যে ইয়োগা সেশনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ কমিউনিটি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। এ ছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অদূরেই রয়েছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, গুলশান মা ও শিশু ক্লিনিক, সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও একটি নার্সিং কলেজ।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকে কেন্দ্রীয় মসজিদ ও বাজার প্রতিদিনসংলগ্ন ছয় বিঘা জমিতে নির্মিত হচ্ছে ‘বসুন্ধরা মেডিক্যাল সিটি’। বেসরকারি পর্যায়ে দেশের বৃহত্তম এই মেডিক্যাল সিটিতে থাকবে জরুরি চিকিৎসাসহ সব ধরনের সুবিধাসংবলিত আধুনিক হাসপাতাল, ১৫০ জন ডাক্তারের জন্য ডক্টরস চেম্বার, থাকবে আধুনিক সুবিধাসংবলিত বিশাল পরিসরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টস ও ওষুধের পাইকারি বাজার, বিশেষায়িত ইউনিট ও বিভিন্ন ক্লিনিক।
বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী একটি অলাভজনক সংস্থা ‘আফরোজা বেগম ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার’। স্বল্পমূল্যে এখানে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পায় রোগীরা। এখানে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অভিজ্ঞ নার্স ও দক্ষ টেকনিশিয়ান।
বসুন্ধরা আই হসপিটাল এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ঢাকা জেলায় একটি অন্যতম প্রধান চক্ষু হাসপাতাল। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে বিনামূল্যে চোখের ছানি ও নেত্রনালি চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালটি আলোচনায় এসেছে। ইনস্টিটিউটের ম্যানেজার (এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) মোহাম্মদ আহসান হাবীব বলেন, ‘গরিব-দুস্থ ও অন্ধ রোগীদের চক্ষু চিকিৎসার সাহায্যার্থে এই উদ্যোগ। সারা দেশে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৬৪১ জন রোগীকে বিনামূল্যে অপারেশন করা হয়েছে। বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছে দেড় লক্ষাধিক মানুষ।
ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা। আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবার ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সমান গুরুত্ব পাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, আধুনিক প্রযুক্তি শুধু সুবিধা বয়ে আনে না, এটি জীবন রক্ষা করার একটি অপরিহার্য উপাদান। তাই আমাদের হাসপাতালে রয়েছে সর্বাধুনিক ল্যাব, অত্যাধুনিক ইমার্জেন্সি, অপারেশন থিয়েটার, প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কেবিন এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ারের মতো আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো। আমরা টেলিমেডিসিন ও ডেটা-ড্রিভেন কেয়ারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছি। জিন প্রযুক্তি, রোবটিক সার্জারির মতো প্রযুক্তির ব্যবহার অচিরেই নিয়ে আসছি এবং ভবিষ্যতে আরো উন্নত প্রযুক্তি, যেমন—এআইভিত্তিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু রোগ নিরাময় নয়; বরং রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্য সচেতন ও স্বাস্থ্যবান জাতি গড়ে তোলা।’
এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা হলো একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি সুপার স্পেশালিটি টারশিয়ারি কেয়ার হসপিটাল, ৪২৫ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতাল দেশে প্রথমবারের মতো জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) স্বীকৃতি অর্জন করেছে। জেসিআই হলো একটি মার্কিনভিত্তিক স্বীকৃতি প্রদানকারী সংস্থা, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবার মান ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে। এই হসপিটালটি সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ নার্স ও টেকনিশিয়ানদের সমন্বয়ে গঠিত, যারা বিভিন্ন চিকিৎসা ক্ষেত্রে সেবা প্রদান করে।
ইউনাইটেড হাসপাতালের জেসিআই অর্জনের নেপথ্যের যাত্রা অনেক দিন ধরেই চলমান, যেটি এই হাসপাতালের ক্রমাগত উন্নতির সাক্ষী। হাসপাতালটি কৌশলগতভাবে অনেক উদ্যোগ নিয়েছে, যে কারণে সেবার মান আরো উন্নত, সমপ্রসারিত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। হাসপাতালটি সেবার মান উন্নীতকরণের প্রচেষ্টায় সেবার প্রতিটি ধাপে আমূল পরিবর্তন এনেছে।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড হাসপাতাল প্রায় ছয় লাখ মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থসেবা দিয়েছে, আর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ডাক্তার, নার্স, মেডিক্যাল প্রফেশনাল আর সেবাদাতার হাতেই নিশ্চিত হচ্ছে এই জেসিআই মানের স্বাস্থ্যসেবা।