বরগুনায় কাগজে-কলমে ঠিকঠাক, বাস্তবে ভিজিডির চাল কম দিচ্ছেন
সংগ্রহীত ছবি
বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নে ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ভিজিডি) কর্মসূচির চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি অসচ্ছল পরিবারের জন্য ৩০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও, বাস্তবে তাদের হাতে পৌঁছেছে মাত্র ২২ থেকে ২৩ কেজি। এ অনিয়মের কারণে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে অবশেষে উপজেলা প্রশাসন চাল বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
সরেজমিন দেখা যায়, বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডির চাল বিতরণ কার্যক্রমের আওতায় ৩০৭টি পরিবারে প্রতিমাসে বরাদ্দের ৩০ কেজি চাল বিতরণের নিয়ম রয়েছে। উপকারভোগীদের হাতে যে চালের বস্তা তুলে দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর ওজন করে দেখা গেছে কোথাও ২২ কেজি, কোথাও বা সাড়ে ২৩ কেজি। অথচ সরকারি কাগজে-কলমে প্রত্যেক সুবিধাভোগীর জন্য নির্ধারিত ৩০ কেজি চাল বরাদ্দ রয়েছে। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটানো এসব পরিবারের কাছে ভিজিডি চালই তাদের সাময়িক অর্থনৈতিক সহায়তার অন্যতম ভরসা।
এমন পরিস্থিতিতে ৭ থেকে ৮ কেজি চাল কম পাওয়ায় অনেকেই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ভিজিডি কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, একজন সুবিধাভোগীকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু বিবিচিনি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগীর স্বামী রতন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবারই তার তাকে ৩০ কেজি দেওয়ার কথা থাকলেও তাকে ৭ কেজি করে কম দিচ্ছেন। একই কথা বলেন একই এলাকার ভুক্তভোগী হাসি বেগমের স্বামী দুলাল।
তিনি বলেন, প্রতিমাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার কথা কার্ডে উল্লেখ থাকলেও তাকে দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ২৩ কেজি করে।
৬ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ আকন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৩ কেজি চাল থাকায় মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দরিদ্র মানুষের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে। আমি দ্রুত অনিয়ম রোধ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে চাল বিতরণের দাবি জানাচ্ছি।
কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, ভিজিডি কার্ডে নাম পেতে ইউপি সচিব ও সদস্যদের ৩-৪ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।
ইউপি সচিব শিশির চন্দ্র মিস্ত্রী বলেন, ভিজিডি কার্ডে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। তবে ইউপি সদস্যরা কি টাকা নিচ্ছেন কি না, সেটা আমার ভালো জানা নেই।
এ বিষয়ে বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নওয়াব হোসেন নয়ন তার সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, আমার উপস্থিতিতে কোনোপ্রকার অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। তবে যদি কোথাও চালের ঘাটতি থেকে থাকে, তা হয়ত পরিবহন বা বস্তা গোছানোর সময় কম-বেশি হয়েছে। আমরা চাল বিতরণের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।
প্যানেল চেয়ারম্যান রিয়াজ সিকদার বলেন, ইউনিয়নের মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়ার মতো কোনো ঘটনা আমরা ঘটতে দিতে চাই না। চাল কম দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ অনিয়ম করে থাকে, তবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ প্রসঙ্গে বেতাগী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুল হাসিব বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে চাল বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবহন ও ওজনজনিত সমস্যার কারণে সামান্য ঘাটতি হতে পারে।
উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বস্তার চাল পরিবহনের সময় পড়ে গেছে।