গাজীপুরের টঙ্গীতে বিস্ফোরণে দুই ফায়ার ফাইটারসহ নিহত বেড়ে ৩
সংগ্রহীত ছবি
টঙ্গীতে কেমিক্যাল গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই ফায়ার ফাইটারসহ ৩ জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় ৪ দিনেও কোনো মামলা হয়নি। স্পর্শকাতর ঘটনাটির তদন্তে নেই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ আটকও হয়নি।
জানা যায়, ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে টঙ্গীর সাহারা মার্কেটের ফেমাস কেমিক্যালের গুদামে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে এসে ড্রাম বিস্ফোরণে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ৫ জনসহ ৮ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে অগ্নিদ্বগ্ধ টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ৪ জনের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের দুজনসহ তিনজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।
বাকী দুজনসহ ৫ জন চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থল নিরাপত্তা জনিত কারণে ঘিরে রেখেছে। ইতোমধ্যে বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দল আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টায় আগুন লাগার পর থেকে পরদিন মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত মালিক ঘটনাস্থলেই ছিলেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় টঙ্গী স্টেশন রোড সংলগ্ন বিসমিল্লাহ টাওয়ার-২ এ নিজ বাসায় যান। কিছুক্ষণ পর মালিক বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ মালিকের বাসায় গিয়ে তাকে পায়নি।
এদিকে গণমাধ্যমে ফেমাস কেমিক্যালের কেমিক্যাল লাইসেন্স নেই বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন থেকে পণ সরবরাহের জন্য একটি সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এই গুদামে নিষিদ্ধ কেমিক্যাল মজুদ রাখা হতো। এই গুদাম থেকে পার্শ্ববর্তী সমবায় কমপ্লেক্স মার্কেটে সেম্পল রেখে বিক্রি করা হতো বিষাক্ত কেমিক্যালের।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে সমবায় কমপ্লেক্স মার্কেটের শতাধিক কেমিক্যাল দোকানও বন্ধ রয়েছে। তবে মার্কেট বন্ধ রেখে গোপনে বিভিন্ন দোকান থেকে দাহ্য পদার্থ সরিয়ে ফেলার খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এসব বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন টঙ্গী অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা কেমিক্যালের লাইসেন্স দেই না। ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কি না খোঁজ নিতে হবে।
মামলার বিষয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহীন আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ২/১ দিনের মধ্যেই মামলা করব।
এসব বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেনি। এই ঘটনায় কোনো আটক বা গ্রেপ্তার নেই।