পেঁয়াজ কাটতে গেলেই চোখে পানি? জানুন করণীয়

পেঁয়াজ কাটতে গেলেই চোখে পানি? জানুন করণীয়

ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ কোনো তরকারি হোক কিংবা মাছ-মাংস, রান্না করতে গেলে যে উপাদানটি আবশ্যক তা হলো পেঁয়াজ। তরকারির ঝোলের ঘনত্ব বাড়াতে আর স্বাদে পূর্ণতা আনতে এর জুড়ি মেলা ভার। সমস্যা হলো পেঁয়াজ কাটতে গেলেই নাকের জলে, চোখের জলে একাকার হতে হয়। 

পেঁয়াজ কাটতে গেলেই চোখে পানি আসে কেন? এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায়ই বা কী? জানুন এই প্রতিবেদনে- 

পেঁয়াজ কাটলে চোখ জ্বলে কেন?

পেঁয়াজ কাটার সময় চোখ জ্বালা করার অন্যতম কারণ হলো এতে থাকা সালফার। যা পেঁয়াজ কাটার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে মেশে। আর বাতাস বাহিত হয়ে চোখের জলীয় অংশের সংস্পর্শে এলেই তা এক ধরনের অ্যাসিড তৈরি করে। এখান থেকেই যাবতীয় জ্বালা, অস্বস্তি, চোখের পানির সূত্রপাত। 

পেঁয়াজ কাটার সময় চোখের পানি বের হওয়া রোধ করতে হলে তাই সবার আগে বাতাসে সালফার ছড়ানো আটকাতে হবে। যা পুরোপুরি রোধ করা না গেলেও কমানো সম্ভব।

পেঁয়াজ কাটার সময় চোখের অস্বস্তি কমাবেন যেভাবে

১। পেঁয়াজের গোড়া সরিয়ে ফেলুন

পেঁয়াজের সবচেয়ে বেশি সালফার থাকে গোড়ায়। অর্থাৎ মূলের অংশটি কেটে বাদ দিতে হবে। অনেকেই পেঁয়াজ কেটে ওই অংশটি সামনেই ফেলে রাখেন। ফলে সালফার ছড়াতে থাকে। এই অংশটি কাটার সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন। এতে চোখে কম অস্বস্তি হবে। 

২। কাটার আগে ফ্রিজে রাখুন

পেঁয়াজ কাটার আগে তা ১০ মিনিট থেকে আধ ঘণ্টা মতো ফ্রিজের ঠান্ডায় রেখে দিন। এতে পেঁয়াজ কাটার সময় তা থেকে সালফার বের হওয়ার মাত্রা কমবে। 

৩। খোসা ছাড়িয়ে ঠান্ডা পানিতে দিন

পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর পরে সেটি ঠান্ডা পানিতে ১০-১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতেও সালফারের প্রভাব বেশ খানিকটা কমবে। 

৪। গ্রামীণ তবে কার্যকরী পদ্ধতি

অনেকে কান্নার হাত থেকে বাঁচতে ভরসা রাখেন গ্রামীণ একটি টোটকায়। তা হলো পেঁয়াজ কাটার সময় মুখে পানি ভরে রাখা। এতে পেঁয়াজের সালফারের মাত্রা না কমলেও চোখে পানির জোগান বাড়ে। ফলে সালফারের বিক্রিয়ায় অ্যাসিড তৈরি হলেও তা ক্রমাগত পানির জোগানের কারণে অস্বস্তি বা জ্বালাভাব হতে দেয় না।

৫। পাখার সামনে কাটুন

পাখার সামনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কাটুন। এতে পেঁয়াজের সালফার চোখ পর্যন্ত পৌঁছে অ্যাসিড বিক্রিয়া ঘটাতে পারে না। ফলে চোখে জ্বালা সৃষ্টি হয় না। 

এর পাশাপাশি পেঁয়াজ কাটতে ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন। বিজ্ঞান বলছে ছুরি খুব ধারালো হলে তা কম কোষ ভাঙে। সেক্ষেত্রে খুব বেশি সালফার বের হয় না। বাঁচা যায় চোখের অস্বস্তি থেকে।