এসব প্রোগ্রামে সচিবরা যান, সর্বোচ্চ মন্ত্রীরা : (জবি)সহকারী অধ্যাপক রাহাত মিনহাজ

এসব প্রোগ্রামে সচিবরা যান, সর্বোচ্চ মন্ত্রীরা : (জবি)সহকারী অধ্যাপক রাহাত মিনহাজ

সংগ্রহীত ছবি

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতালির রাজধানী রোমে যাওয়া প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহাত মিনহাজ বলেছেন, এ প্রোগ্রামে খুব সম্ভবত প্রধান উপদেষ্টা আছেন, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আছেন, আর জিবুতি অথবা কোনো এক দেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়েছেন। এই প্রোগ্রামে সচিবরা যান। এই প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ মন্ত্রীরা যান। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হয়ে সেখানে কেন গেলেন এবং সেটা কেন খুব প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ল- এটা আমার বোধগম্য নয়।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ‘অন্য মঞ্চ’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামালের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের অনুষ্ঠানে গেলেন, আপনি (রাহাত মিনহাজ) এই অনুষ্ঠানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আগে থেকে খুব ওয়াকিবহাল ছিলেন, উনি (প্রধান উপদেষ্টা) যাওয়াতে কি আমাদের খুব একটা সম্মান বৃদ্ধি হলো? এটা কি খুব জরুরি ছিল?- মাসুদ কামালের এমন প্রশ্নে রাহাত মিনহাজ বলেন, আমি এখানে যখন কথা বলছি, তখন আমাদের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছেন। তারা গত দু-তিন দিন ধরে ঢাকার রাজপথে আছেন। তারা পুলিশের দ্বারা নিগৃহীত হচ্ছেন।

আমরা গণমাধ্যমে খুবই হৃদয়বিদারক ছবি দেখছি এবং এখনো যখন আপনার সঙ্গে বলছি, রাতের বেলা তারা এখনো শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন। তারা সবকিছু বাদ দিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করছেন। শহীদ মিনারে রাত কাটানো- এটা কিন্তু কেউ শখ করে করে না। এর পেছনে অনেক বঞ্চনা, অনেক অনেক দুঃখ অনেক যাতনা, অনেক কষ্ট থাকে।

এই শিক্ষকরা এখানে এই কষ্টের জীবনযাপন করছেন, আর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেই বিষয়গুলোর কোনো ধরনের সুরাহা না করে এখন রোমে আছেন। এটা আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগেনি। তিনিও তো শিক্ষক ছিলেন, তাই না? তিনিও তো প্রফেসর ছিলেন। তিনিও ছাত্র পড়িয়েছেন, তিনি তো শিক্ষক ছিলেন।

তিনি বলেন, রোমে এখন তিনি যে প্রোগ্রামে গেছেন আমি একটু ঘেঁটেঘুঁটে দেখলাম, পড়াশোনা করে দেখলাম- খুব সম্ভবত প্রধান উপদেষ্টা আছেন, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আছেন, আর জিবুতি অথবা কোনো এক দেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে গিয়েছেন।

এই প্রোগ্রামে সচিবরা যান। এই প্রোগ্রামে সর্বোচ্চ মন্ত্রীরা যান। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হয়ে সেখানে কেন গেলেন এবং সেটা কেন খুব প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ল- এটা আমার বোধগম্য নয়। ড. মুহাম্মদ ইউনূস অত্যন্ত সম্মানী মানুষ। তিনি দেশের সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বিশ্ব-দরবারে আমাদেরকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য একজন আলোকবর্তিকা। তিনি আমাদের দেশের সম্মান অনেক বৃদ্ধি করেছেন- সেগুলোর ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে, রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তার এই সফর এবং এই সফর থেকে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে এবং এটা কেন আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল- এটা আমার ঠিক মগজে ঢোকে না। আজও ঢোকেনি এবং তার আগের কয়েকটা সফরের ব্যাপারেও আমি কোনো ধরনের আসলে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাইনি।

রাহাত মিনহাজ আরো বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার পরে তিনি যে এই যে আপাতদৃষ্টিতে বা একটু বিশ্লেষণ করলেও আমরা বুঝতে পারি যে এই যে অপ্রয়োজনীয় সফরগুলো বিভিন্ন ধরনের সংখ্যার মানুষকে সঙ্গে করে তিনি করছেন, এতে আসলে আলটিমেটলি লাভ কার হচ্ছে? ক্ষতি কার হচ্ছে? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, উনি বিশ্ব পরিসরে যাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতি আছে, তিনি হয়ত কিছু না কিছু ক্ষেত্রে লাভবান হতে পারেন, কিন্তু এখানে দুইটা পক্ষ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একটা হচ্ছে এই বাংলাদেশ নামক গরিব রাষ্ট্রের টাকা নষ্ট হচ্ছে, আর আরেকটা ভীতিকর ক্ষতি হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের। এই যে এত মানুষ রক্ত দিয়ে, এত মানুষ প্রাণ দিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠা করল এবং এই রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য ম্যান্ডেট দিল- সেটা তো হলো না।