মালয়েশিয়ায় ১ লাখ ৩৩ হাজার প্রতারণামূলক কনটেন্ট অপসারণ
ফাইল ছবি
মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন (MCMC) ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৮টি প্রতারণামূলক অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ করেছে। এটি মোট অনুরোধের প্রায় ৯৫ শতাংশ সফল বাস্তবায়ন নির্দেশ করে।
যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক ফাহমি ফাদজিল জানিয়েছেন, একই সময়ে ৫০,১৬০টি সাইবারবুলিং সংক্রান্ত কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ করা হয়, যার মধ্যে ৩৮,৪৭০টি সফলভাবে সরানো হয়েছে—সফলতার হার প্রায় ৭৭ শতাংশ।
তিনি জানান, এসব অপসারণ কার্যক্রম জনগণের অভিযোগ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কমিউনিটি গাইডলাইন অনুযায়ী, স্থানীয় আইন মেনে সম্পন্ন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দেওয়ান রাকইয়াত (সংসদ)-এ প্রশ্নোত্তর পর্বে আজাহারি হাসানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
ফাহমি বলেন, অনলাইন প্রতারণা ও সাইবারবুলিং আর্থিক ক্ষতি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় এমসিএমসি এ বছর থেকে ইন্টারনেট মেসেজিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারীদের জন্য লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে।
এখন থেকে যোগ্য সেবা প্রদানকারীদের ‘অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার (ক্লাস)’ লাইসেন্স নিতে হবে, যা ১৯৯৮ সালের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর এমসিএমসি ‘ইন্টারনেট মেসেজিং ও সোশ্যাল মিডিয়া সার্ভিস প্রোভাইডারদের জন্য আচরণবিধি (Code of Practice)’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
এছাড়া দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার ‘অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট ২০২৫’ কার্যকর করেছে। এ আইনের মাধ্যমে অ্যাপ প্রোভাইডার, কনটেন্ট প্রোভাইডার এবং নেটওয়ার্ক সার্ভিস প্রোভাইডারদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফাহমি ফাদজিল বলেন, এমসিএমসি বর্তমানে অ্যাক্ট ৮৬৬-এর অধীনে অনলাইন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গাইডলাইন প্রণয়ন করছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ‘সেইফ ইন্টারনেট ক্যাম্পেইন’ সম্প্রসারণ করেছে, যাতে নাগরিকদের সাইবার প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করা যায়।