রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে হঠাৎ দুদকের অভিযান

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোতে  হঠাৎ দুদকের অভিযান

সংগ্রহীত ছবি

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রধান কার্যালয়ে রবিবার (২ নভেম্বর) হঠাৎ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির এক উপপরিচালকের বিরুদ্ধে বিদেশি মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডলারে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ডলারে ঘুষ নেন ইপিবির এক কর্মকর্তা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ প্রথম উঠে আসে। ঘটনার পর ইপিবি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য একটি দল গঠন করে এবং অভিযোগ আমলে নিয়েম রবিবার সকালে ইপিবি কার্যালয়ে অভিযান চালায়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘আমাদের এক উপপরিচালকের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই দুদকের তিন সদস্যের একটি দল আমাদের কার্যালয়ে আসে।

আমরা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছি। এখনো অনুসন্ধান চলছে।’

ইপিবি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইপিবির অনুমোদন ছাড়া ১৪টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জামানত বাবদ ১৫০ ডলার করে নেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের আগস্টে চীনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি মেলায় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়া হয়েছিল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন পরিমাণের পে–অর্ডার ইস্যু করে। ইপিবির ওই উপ-পরিচালক সেগুলো দীর্ঘদিন নিজের জিম্মায় রেখে আত্মসাতের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযানের সময় দুদক কর্মকর্তারা সরেজমিন ইপিবি কার্যালয়ে এসে এসব পে–অর্ডার উদ্ধারের চেষ্টা চালান। তবে সেগুলোর কোনো অংশ উদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।