উপকূলীয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের টেকসই জীবিকায়ন পরিদর্শন
ছবি: প্রতিনিধি
PKSF কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Resilient Homestead and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (RHL) প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের টেকসই জীবিকায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল উদ্যোগ পরিদর্শন করা হয়েছে।
পিকেএসএফ-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোঃ মনসুর আলম এবং আদ্-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের পরিচালক মোঃ ফজলুল হক আরএইচএল প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তারা জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল ঘর নির্মাণ, কাঁকড়া মোটাতাঁজাকরণ, লবণাক্ততা সহনশীল সবজি চাষ এবং রাস্তার দুইপাশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পরিদর্শন করেন।
জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল ঘর নির্মাণ:
উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বিবেচনায় এই ঘরগুলো উঁচু ভিত্তির উপর নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে জোয়ারের পানি বা বন্যায় ঘরে পানি প্রবেশ না করতে পারে। এই ঘরগুলো শুধু নিরাপত্তা নয়, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার স্থিতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ কার্যক্রম:
পরিদর্শকরা উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানেন, কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ এখন অনেক পরিবারের প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। এই কার্যক্রম নারীদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করছে, যা টেকসই জীবিকা ও নারী অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের নতুন দ্বার খুলে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ এক সফল উদ্যোগ।
রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি:
পরিদর্শক দল প্রকল্প এলাকার রাস্তার পাশে রোপিত হাজারো গাছ দেখতে পান। এই বৃক্ষরোপণ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, বরং বাতাসের গুণমান উন্নত, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উপকারভোগীরা জানান, এসব উদ্যোগ তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন এনেছে—জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমেছে, আয় বেড়েছে এবং টেকসই জীবনযাপনের নতুন পথ তৈরি হয়েছে।
আরএইচএল প্রকল্পের এসব কার্যক্রম উপকূলের মানুষকে শুধু ঘর নয়, দিচ্ছে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা, সবুজ পরিবেশ ও টেকসই জীবিকার স্বপ্ন।