ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের ফার্স্ট এইড বক্স উপহার ছাত্রশিবিরের

ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের ফার্স্ট এইড বক্স উপহার ছাত্রশিবিরের

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা কলেজের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হলে ‘ফাস্ট এইড বক্স’ প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা কলেজ শাখা। পাশাপাশি স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কলেজ প্রশাসনের কাছে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছে সংগঠনটি। 

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিটি হলের প্রতিনিধিদের হাতে এসব ‘ফাস্ট এইড বক্স’ হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক, গজ ও ড্রেসিং উপকরণ রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন শাখার সেক্রেটারি আব্দুর রহমান আফনান। উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক সাইমুন ইসলাম সানি, অর্থ সম্পাদক আব্দুল মালেক, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মো. মামুন ও আইটি সম্পাদক আব্দুর রশিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “আমাদের ছাত্রজীবনে শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষাও জরুরি। ক্যাম্পাসে হঠাৎ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার সময় প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”

সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদ বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ছোট-বড় নানা শারীরিক সমস্যায় ভোগেন, কিন্তু তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেই বাস্তবতা থেকেই আমাদের এই উদ্যোগ।” তিনি জানান, ‘ফাস্ট এইড বক্সগুলো নিয়মিত রিফিল করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা যে কোনো সময় এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।’

তবে এটি সাময়িক সহযোগিতা জানিয়ে তিনি স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রশাসনের কাছে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন—

ক্যাম্পাসে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে স্থায়ী স্বাস্থ্য টিম গঠন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত, জরুরি সেবায় আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন এবং কোনো হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা করে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা অনেকটাই নিশ্চিত হবে।

মোস্তাকিম আরও বলেন, “ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। নৈতিক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি জানান, সংগঠনটি এর আগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বৃক্ষরোপণ, কুরআন উপহার, ঈদ মধ্যাহ্নভোজ, পিঠা উৎসব, কুইজ প্রতিযোগিতা ও কুরআন পাঠ প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে স্পোকেন ইংলিশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, কুরআনিক ভাষা এবং আইটি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু রয়েছে।

ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়ন ও ইতিবাচক ক্যাম্পাস পরিবেশ গঠনে আরও কর্মসূচি হাতে নেওয়ার ঘোষণা দেন মোস্তাকিম। তাঁর ভাষায়, “শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেবল জ্ঞান অর্জন নয়, বরং মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা। আর সেই মানুষ গড়ার আন্দোলনে অগ্রভাগে থাকবে আদর্শবান, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক ছাত্র সমাজ।”