বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া বিএনপি
সংগ্রহীত ছবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষ দীর্ঘদিন পর ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) পৌর সদরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সব দ্বন্দ্ব-বিভেদ ভুলে দুই পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের জন্য কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে অ্যাড. মো. জালাল উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে ৮৪ সদসবিশিষ্ট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা বিএনপি।
ওই কমিটিতে ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দীনকে। এতে ক্ষুব্ধ হন কামাল উদ্দীন। এরপর থেকেই অ্যাড. মো. জালাল উদ্দীনের সঙ্গে কামাল উদ্দীনের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এ দ্বন্দ্বের কারণে ৪ বছর ধরে দুই পক্ষ পাকুন্দিয়ায় আলাদাভাবে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের কোন্দলে জর্জরিত হয়ে উপজেলা বিএনপি দ্বিধাবিভক্তি হয়ে পড়েছিল। এর প্রভাব ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। ৪ বছর পর অবশেষে এ বিরোধ নিষ্পত্তি হলো।
দলীয় সূত্রে আরো জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাড. মো. জালাল উদ্দীন।
মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি এই বিরোধ নিরসনের জন্য উদ্যোগ নেন। বৃহস্পতিবার সকালে পৌর সদরের বড়বাড়ি সড়কের পাশে একটি মাঠে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় চলা এ মতবিনিময় সভায় উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌফিকুল ইসলাম, আতিকুর রহমান মাসুদ, আব্দুস সাত্তার, ভিপি কামাল উদ্দীন, মো. এরফান উদ্দীন, পৌর বিএনপির সভাপতি এসএএম মিনহাজ উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম সুজন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমানসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মী।
পৌর বিএনপির সভাপতি এসএএম মিনহাজ উদ্দীন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ হচ্ছে দলে কোনো বিভেদ ও মতভেদ রাখা যাবে না।
দল করতে হলে আমরা সবাই দলের হাই কমান্ডের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এরফান উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিনের বিভেদ নিষ্পত্তি হওয়ায় খুশি সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। আমাদের উপজেলা বিএনপির বিভেদ আজ মিটে গেছে। এটি আমাদের দলের জন্য মঙ্গল। নিজেদের মধ্যে বিভক্তি হলে অন্যরা সুযোগ নেয়। আমরা এখন ঐক্যবদ্ধ। সামনের যেকোনো অপশক্তি মোকাবিলা করতে আমরা এখন থেকে একসঙ্গে কাজ করব।