মদ খেয়ে নামাজ পড়লে সওয়াব হবে কি?

মদ খেয়ে নামাজ পড়লে সওয়াব হবে কি?

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে মদ নাপাক ও মদ্যপান হারাম। কোরআনে একে শয়তানের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে- ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ধারণকারী তীর শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে সফল হও।’ (সুরা মায়েদা: ৯০)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করতে চায় এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে বিরত রাখতে চায়।’ (সুরা মায়িদা: ৯১)

৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি মদ পান করে, তার ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না। সে তওবা করলে আল্লাহ তাআলা তার তওবা গ্রহণ করেন। কিন্তু যদি আবার মদপান করে, আল্লাহ তার ৪০ দিনের নামাজ গ্রহণ করেন না… এবং চতুর্থবার করলে আল্লাহ তাআলা তার তওবা আর কবুল করবেন না এবং তাকে জাহান্নামিদের পুঁজের ঝরনা ‘নাহরুল খাবাল’ থেকে পান করাবেন।’ (তিরমিজি: ১৮৬২)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আমার উম্মতের কেউ যদি মদ পান করে, আল্লাহ তাআলা তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল করবেন না।’ (সুনানে নাসায়ি: ৫৬৬৪)

‘নামাজ শুদ্ধ হয় না’ ধারণা ভুল

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘নামাজ কবুল না হওয়ার অর্থ হলো এতে তার সওয়াব হবে না; তবে নামাজ আদায় হয়ে যাবে এবং পুনরায় আদায় করার প্রয়োজন নেই।’ (শরহু মুসলিম: ১৪/২২৭)

মদ সব গুনাহের মূল

রাসুল (স.) বলেন, ‘মদপান থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এটি সব অপকর্মের চাবি।’ (হাকেম, খণ্ড ৪, পৃ. ১৪৫)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘মদ পানকারী, ব্যভিচারী, চোর—যখন এসব গুনাহে লিপ্ত হয়, তখন তারা ঈমানদার থাকে না।’ (বুখারি: ২৪৭৫; মুসলিম: ৫৭)। তবে তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করেন।

তাওবাই একমাত্র পথ

মদপান একটি বড় গুনাহ। তবে কেউ শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মদ পান করলে নামাজ বাদ দেওয়া যাবে না। নামাজ পড়তে হবে এবং আন্তরিক তাওবা-ইস্তেগফারও করতে হবে। আল্লাহ তাআলা তাওবাকারী বান্দাকে ভালোবাসেন।

সারকথা, মদ খেয়ে নামাজ পড়লে ফরজ আদায় হয়, কিন্তু সওয়াব মেলে না। তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন, পুনরায় মদে জড়ালে শাস্তি বেড়ে যায়। তাই পরিত্রাণের একমাত্র পথ হলো- মদ থেকে দূরে থাকা ও নামাজে অবিচল থাকা।