অলসতা দূর করার কিছু উপায়

অলসতা দূর করার কিছু উপায়

ছবিঃ সংগৃহীত

অলসতা এমন এক মানসিক দুর্বলতা, যা ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা, মনোবল ও আধ্যাত্মিক শক্তিকে নিঃশেষ করে দেয়। এই প্রবণতা শুধু পার্থিব কাজে নয়, ইবাদতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অথচ ইসলাম মানুষকে সক্রিয়, কর্মঠ ও সময়ানুবর্তী হতে শিক্ষা দেয়। প্রচেষ্টা ছাড়া প্রাপ্তি নেই, এই নীতিই ইসলামের জীবনবোধের মূলভিত্তি। নবী করিম (সা.) কখনো অলসতা পছন্দ করতেন না, তিনি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতেন অলসতা থেকে। তার জীবন ও দোয়ায় আমরা পাই এমন নির্দেশনা, যা মানুষকে কর্মোদ্যমী, দৃঢ়চেতা ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বলবান মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ আছে।’ (সহিহ মুসলিম)

ইমাম নববী (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এখানে বলবান বলতে কেবল শারীরিক শক্তি বোঝানো হয়নি, বরং বোঝানো হয়েছে আত্মিক শক্তি, কর্মোদ্যম এবং আল্লাহর আদেশ পালনে দৃঢ়সংকল্প। আর দুর্বল মুমিন বলতে বোঝানো হয়েছে সেই ব্যক্তিকে, যে ইমানদার হলেও অলসতা ও অনীহায় ভোগে, ফলে আমল কম করে। (শরহে সহিহ মুসলি, ১৬/২০৫)

"إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُم مُّحْسِنُونَ"
— নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথেই আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে ও সৎকর্ম করে।
(সূরা নাহল ১৬:১২৮)

নবীজি (সা.) কখনো অলসতা পছন্দ করতেন না। তিনি ভোরে ঘুম থেকে উঠতেন, ফজরের পর জিকির করতেন, মানুষকে কাজে উৎসাহ দিতেন এবং বলতেন, ‘যে ব্যক্তি সকালবেলা আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকে, তার সারা দিনে বরকত নেমে আসে।’ (আবু দাউদ)

অলসতা থেকে মুক্তি পেতে নবীজি (সা.) দোয়া করতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি ওয়াল হারামি ওয়াল বুখলি, ওয়া আউজু বিকা মিন আজাবিল কবরি, ওয়া আউজু বিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কাপুরুষতা ও বার্ধক্য থেকে, কৃপণতা থেকে। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই কবরের আজাব থেকে এবং জীবিত ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে। (সহিহ মুসলিম)

দোয়া মনোযোগ বাড়ায়। যারা সকালবেলা প্রার্থনা বা ধ্যান করেন, তাদের মনোযোগ ও কার্যক্ষমতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। নবীজির শেখানো দোয়া একটি মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসাও বটে। প্রতিদিন সকালে এই দোয়া পাঠ করলে মানসিক দৃঢ়তা বাড়ে, মনোবল দৃঢ় হয় এবং কাজের প্রতি নতুন উৎসাহ জাগে।

আল্লাহর ওপর নির্ভরতা মানসিক চাপ কমায়। দোয়া করার সময় মানুষ যখন নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তখন তার মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়, যা অলসতা ও হতাশা কাটাতে সহায়তা করে।

লেখক : আলেম ও ধর্মীয় নিবন্ধকার