বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জরিমানা বেড়ে ৫০ লাখ টাকা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জরিমানা বেড়ে ৫০ লাখ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিদ্যমান আইনে যেখানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য ছিল, নতুন প্রস্তাবিত খসড়ায় সেটি বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকার করা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ সংশোধনের খসড়া ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৫’ তৈরি করেছে।

প্রস্তাবিত খসড়ায় আইন লঙ্ঘন বা সরকারের নির্দেশ অমান্য করলে ইউজিসি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা আরোপ করতে পারবে। তবে কারাদণ্ডের সর্বোচ্চ মেয়াদ তিন বছর কমিয়ে দুই বছর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত আইনে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ জালিয়াতি ধরা পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ন্যূনতম দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ বা সনদ বাতিল হলে পূর্বের শিক্ষার্থীদের সনদপত্র ও মার্কসিট/ট্রান্সক্রিপ্ট স্বাক্ষর করার দায়িত্ব নির্ধারিত ব্যক্তির ওপর অর্পণ করা হয়েছে।

নতুন বিধিতে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যদের সনদ প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে উপাচার্য না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রো-ভিসি বা রেজিস্ট্রার সনদ প্রদান করতে পারবেন। এছাড়া একাডেমিক নথিতে আচার্য কর্তৃক মনোনীত উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরের বিধান নির্ধারিত হয়েছে।

ট্রাস্টি বোর্ডে একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি সদস্য থাকবেন না এমন নিয়মও সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি বোর্ডের সদস্য সংখ্যা অনধিক ১৫ এবং ন্যূনতম ৯ জন হতে হবে। ইউজিসি জানায়, এটি বোর্ডের বৈচিত্র্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কমপক্ষে ৫ একর জমি থাকা, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে ইউজিসির নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠন এবং টিউশন ফি নির্ধারণে ইউজিসির অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হবে।

বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৬টি, যার মধ্যে ১০৫টিতে পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন লাখ ৫৮ হাজারের বেশি। ইউজিসি আশা করছে, সংশোধিত আইন কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি কমবে।