এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৯ হাজার
ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশে আগামী ২ জুলাই শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য মোট নিবন্ধিত বা ফরম পূরণ করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন। সেই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন।
তবে গত বছর নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় চূড়ান্তভাবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালের সেই প্রকৃত অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় এবার নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার (৩৪,৯২২ জন) বেশি। আর ১১টি বোর্ডের অধীনে এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে দেশজুড়ে প্রস্তুত করা হয়েছে ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্র।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা-পরবর্তী কয়েক বছরের শিক্ষাগত ধাক্কা এবং পরবর্তী সময়ে বন্যা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কাটিয়ে এবার মাধ্যমিক স্তর থেকে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হওয়ায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এই বৃদ্ধি সব বোর্ডে সমানভাবে ঘটেনি। কোথাও পরীক্ষার্থী বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে, আবার কোথাও কমেছে উদ্বেগজনকভাবে। সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারের পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের জালিয়াতি, প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ও অনৈতিক সুবিধা বন্ধ করতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মতোই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, পরীক্ষার হলগুলোতে কড়া প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
বিগত বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কিছু কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে এবার কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন) ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সচিব থেকে শুরু করে পরিদর্শকদের জন্য জারি করা হয়েছে কঠোর নির্দেশনা। কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর থাকলে বা কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কেন্দ্রের স্বীকৃতি বাতিলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।
পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় সর্বোচ্চ অবস্থানে ঢাকা বোর্ড, আশঙ্কাজনকভাবে পিছিয়ে ৫ বোর্ড
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির বোর্ডভিত্তিক উপাত্ত ও গত বছরের (২০২৫) চূড়ান্ত পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বরাবরের মতোই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও কেন্দ্রের বিচারে দেশের সব বোর্ডের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এবার ঢাকা বোর্ডে মোট ৩ লাখ ৩৯৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসছে, যারা ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। গত বছর এই বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৯১ হাজার ২৪১ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ঢাকায় পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৯ হাজার ১৫২ জন।
তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে। এবারও পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে দেশের তলানিতে অবস্থান করছে এই বোর্ড। বরিশাল বোর্ডে ১৪২টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এবার পরীক্ষা দেবে মাত্র ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ২৫ জন। ফলে দেখা যাচ্ছে, বরিশালে গত বছরের চেয়ে এবার ২ হাজার ৩৬১ জন পরীক্ষার্থী কমে গেছে।
উত্তরাঞ্চলের দুই বোর্ড রাজশাহী ও দিনাজপুরে এবার পরীক্ষার্থী বৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন পরীক্ষার্থী মোট ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে, যা গত বছরের (১ লাখ ৩৩ হাজার ২৪২ জন) তুলনায় ৭ হাজার ৫৮৮ জন বেশি।
এদিকে, ২০২৬ সালের এইচএসসিতে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। পুরো দেশের মধ্যে এই বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী বৃদ্ধির হার ও সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দিনাজপুর বোর্ডে ২১২টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে, যা গত বছরের ১ লাখ ৩ হাজার ৮৩২ জনের তুলনায় ৯ হাজার ৬৪৭ জন বেশি।
এর বাইরে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বোর্ডেও এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। গত বছরের ৬৯ হাজার ৬৮৩ জনের জায়গায় এবার সিলেটের ৯৬টি কেন্দ্রে মোট ৭১ হাজার ৭১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। অর্থাৎ সিলেটে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ২ হাজার ২৮ জন।
অন্যদিকে, দেশের পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তর যশোর বোর্ডে ২৪০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এবার ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে, যেখানে গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৩১৭ জন। এই বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে, বৃদ্ধির পরিমাণ মাত্র ৮৯৩ জন।
সারাদেশে যখন পরীক্ষার্থী বৃদ্ধির হাওয়া, তখন দেশের অন্যতম বড় বোর্ড কুমিল্লায় দেখা গেছে উল্টো চিত্র। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এবার কুমিল্লা বোর্ডে গত বছরের চেয়ে পরীক্ষার্থী কমেছে ৬ হাজারেরও বেশি। গত বছর এই বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৭৫ জন, যা এবার ১৯৩টি কেন্দ্রে কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৮০২ জনে। অর্থাৎ এক বছরে কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষার্থী কমেছে ৬ হাজার ২৭৩ জন।
একইভাবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় পতন হয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডেও। এবার ময়মনসিংহের ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে, যা গত বছরের ৭৮ হাজার ২৭৩ জনের তুলনায় ৫ হাজার ২৩৬ জন কম।
চট্টগ্রাম বোর্ডেও এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় সামান্য পতন হয়েছে। চট্টগ্রামের ১১৪টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, যা গত বছরের ১ লাখ ৩৫ জনের চেয়ে ৩৪৭ জন কম।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাইরে বিশেষায়িত দুই বোর্ডের পরিসংখ্যানেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার সারাদেশে ৪৬১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। গত বছর এই বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৮৬ হাজার ১০২ জন। সেই হিসাবে এবার মাদরাসা বোর্ডে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৬ হাজার ৮০৩ জন।
তবে হতাশার চিত্র দেখা গেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। এবার কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, যা গত বছরের (১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন) তুলনায় ১ হাজার ৬৪৭ জন কম।
এইচএসসি ঘিরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি : থাকছে কড়া নজরদারি
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুধু পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকেই নয়, পরিচালনাগত কঠোরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকেও সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্র নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ডিজিটাল নজরদারিসহ সব বিষয়েই বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা বোর্ড।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষাকক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ দিতে হবে এবং কোনো কক্ষে দুইজনের কম দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড—৫ বা ৬ ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে দুইজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে। পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবে। তবে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সবাইকে নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে।
প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনাতেও রাখা হয়েছে একাধিক নিরাপত্তা স্তর। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের প্রহরায় কেন্দ্রে আনা হবে এবং মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিকেও এবার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে এবং ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড, ব্র্যান্ড, ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর ও ডিভিআর/এনভিআর সংযোগের তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে বলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর থাকলে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৈথিল্য ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।
এ ছাড়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরাও কাঁটাযুক্ত ঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস বহন করতে পারবে না। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতি বন্ধ রাখা, টয়লেট তল্লাশি, প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশের সম্পৃক্ততা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা ঘিরে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর—০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এ ছাড়া যোগাযোগের জন্য ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫6১০৩১৫২ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ই–মেইল ঠিকানা : controller@dhakaeducationboard.gov.bd।
পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকার সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার ঢাকা পোস্টকে বলেন, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও পরিবহন, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ তদারকি থেকে শুরু করে সিসিটিভিভিত্তিক পর্যবেক্ষণ— সব পর্যায়ে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রসচিব, পরিদর্শক, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের উদ্বেগ ছাড়াই নিজেদের অর্জিত জ্ঞান ও সক্ষমতার ভিত্তিতে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।
এছাড়া আগামী ২৪ জুন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু পরিবেশে আয়োজন করতে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় ঢাকা ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আওতাভুক্ত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।