যে কারনে বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় তিল রাখা জরুরি
ছবিঃ সংগৃহীত।
বয়স ষাটের ওপরে চলে গেলেই খাদ্যতালিকা থেকে সব কিছু বাদ দেওয়া জরুরি এমন কিছু নয়।বরং বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও বয়স অনুযায়ী খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা প্রয়োজন। বিশেষত, বয়স্কদের জন্য তিল খুবই উপকারী, যা অনেকেই জানেন না।
সাদা বা কালো তিল—দুই ধরনের তিলই একই পরিমাণে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। পুষ্টিবিদেরা বয়স্কদের জন্য তিল খাওয়ার পরামর্শ দেন। তিলের নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। যেমন তিলের নাড়ু।
কিন্তু তিল খাওয়ার অজানা উপকারিতা অনেকের কাছেই অজানা।
তিলে রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যকর উপাদান যেমন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। তিলের বীজে থাকা ফাইটোস্টেরল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কোলেস্টেরলও কমায়। তাছাড়া, তিলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন ও ফাইবার থাকার কারণে এর পুষ্টিগুণ আরো বেশি।
বয়স্কদের ডায়েটে তিল রাখার কারণ
হাড়ের স্বাস্থ্য : তিলে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসের উপস্থিতি হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে গাঁটের ব্যথা ও বাতের সমস্যাও বাড়ে, সেক্ষেত্রে তিল খাওয়া খুবই উপকারী। তিল দাঁতেরও স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ : বয়স বাড়লে অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয়। তিল হজমে সাহায্য করে এবং পেট পরিষ্কার রাখে।
তাই বয়স্কদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য।
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমানো : তিলে থাকা ফেনোলিক্স, লাইগন্যান্স ও অন্যান্য যৌগ অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে এবং স্নায়ুজনিত সমস্যা রুখতে সহায়ক। নিয়মিত তিল খেলে অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি কমে যেতে পারে।
হার্টের স্বাস্থ্য : তিলে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে, যা হার্টের জন্য উপকারী।
ত্বকের স্বাস্থ্য : তিলের মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ভিটামিন ই ত্বকের বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে। বয়স ধরে রাখতে তিল একটি কার্যকরী উপাদান।
এভাবে তিল শুধু শরীরের বিভিন্ন অংশের জন্য উপকারী নয়, বরং বয়সজনিত নানা সমস্যা মোকাবিলায়ও সহায়ক। তাই বয়স্কদের ডায়েটে তিল রাখা উচিত।