রাস্তায় রাস্তায় জুবিনের ছবি, কেউ ফুল দিচ্ছেন, কেউ মোমবাতি জ্বালছেন

রাস্তায় রাস্তায় জুবিনের ছবি, কেউ ফুল দিচ্ছেন, কেউ মোমবাতি জ্বালছেন

ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে আসামের রাজা বলতেন জুবিন। ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তার মৃত্যুতে সাতদিন কাঁদবে রাজ্যটি। হয়েছেও তাই। মাস দুয়েক আগে জনপ্রিয় এ গায়ককে হারিয়ে গোটা আসাম তুলেছিল শোকের মাতম। আজ ১৮ নভেম্বর তার জন্মদিনও পালন হলো রাজ্যজুড়ে।

জুবিনের জন্মদিন উপলক্ষে আসামে তার প্রিয় বন্ধু সংগীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তার চোখ দিয়ে দেখেছে গায়কের জন্মদিনের আয়োজন। জিৎ জানিয়েছেন, গোটা আসাম পালন করছে জুবিনের জন্মদিন।

তার কথায়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে রাজ্যের চিকিৎসকদের সংগঠন— সকলে নানাভাবে স্মরণ করছে, শ্রদ্ধা জানাচ্ছে আমার ছোট ভাইকে (জুবিন)। শুধুই ভালো শিল্পী বলে? একেবারেই না। মাটিতে পা রেখে চলত বলে। পড়ুয়াদের খুব ভালোবাসত বলে। দরিদ্রদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে বলে। ওরা আজ ‘মানুষ’ জুবিনকে নতুন করে ভালোবাসছেন।

জিৎ জানিয়েছেন, আসামের সব রাস্তায় টাঙানো হয়েছে জুবিনের ছবি। পথচারীরা কেউ ফুল দিচ্ছেন, কেউ জ্বালছেন মোমবাতি। গায়কের সমাধিস্থলও ভরেছে ফুল, মোমবাতি ও ছবিতে। শ্রদ্ধা জানাতে লাইন ধরেছেন ভক্তরা। কিন্তু কোনো হুড়োহুড়ি নেই। চুপচাপ শান্তশিষ্টভাবে দাঁড়িয়ে আছেন সবাই।

এদিকে জীবদ্দশয়ায় জুবিন ছিলেন যেন এক দাতব্য প্রতিষ্ঠান। তার অর্থে জীবন যাপন করেছে অসংখ্য দ্যস্থ অসহায়। এদিন তারাও স্মরণ করছেন গায়ককে। বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছে মূক-বধির একদল শিশু। জুবিন ছিলেন তাদের আশ্রয়দাতা।

জিৎ বলেছেন, দিন দুই আগে হাসপাতাল থেকে বাড়ি এসেছে জুবিনের স্ত্রী গরিমা গার্গ শইকীয়া। ওরা যে আবাসনে থাকে, তার নিচে সুন্দর করে মঞ্চ সাজিয়েছে গরিমা। নীল, সাদা, সোনালি বেলুন দিয়ে সাজানো। জ়ুবিনের ছবি ফুলে ফুলে ঢাকা। কত লোক এসে সেখানে শ্রদ্ধা জানিয়ে যাচ্ছেন! গরিমা চুপচাপ সব কিছু দেখে যাচ্ছে। ওর মুখে যেন ভাষা নেই! আচমকা এত বড় আঘাত! শোকে পাথর সে।

সবশেষে জিতের উপলব্ধি, ওর জন্মদিনে আসামে এসে বুঝলাম, হৃদয়ের কতটা গভীরে জায়গা করে নিলে তবে রাজ্য মাসের পর মাস শোকে ডুবে থাকে!