ডিসেম্বরে সমুদ্র পরীক্ষায় যাচ্ছে বিএসসির দ্বিতীয় জাহাজ
ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) নিজস্ব অর্থায়নে কেনা দ্বিতীয় নতুন জাহাজ ‘এমভি বাংলার নবযাত্রা’ ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সমুদ্রে ট্রায়াল রান শুরু করতে যাচ্ছে।
চীনের নানইয়াং শিপইয়ার্ডে নির্মিত জাহাজটি ইতোমধ্যে যাত্রার পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ট্রায়াল রানে বিএসসির বিশেষজ্ঞ দল ও শিপইয়ার্ডের প্রকৌশলীরা অংশ নেবেন। পরীক্ষায় কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের পরই জাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে ২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশি পতাকা উড়িয়ে আন্তর্জাতিক রুটে পণ্য পরিবহনে নামবে নতুন জাহাজটি।
বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির বহনক্ষমতা ৬৩ হাজার ৫০০ টন। ড্রাফট ১৩.৫ মিটার, দৈর্ঘ্য ১৯৯.৯৯ মিটার, প্রস্থ ৩২.২৬ মিটার। নতুন জাহাজ যুক্ত হলে বিএসসির বহর দাঁড়াবে সাতটিতে।
২০১৯ সালের পর দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে এ বছর দুইটি নতুন জাহাজ সংগ্রহে এগোয় বিএসসি। এর মধ্যে প্রথম জাহাজ ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ ইতোমধ্যে বহরে যোগ দিয়ে চালনা শুরু করেছে। কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা—দুটি জাহাজ বহরে এলে বছরে ২০০ কোটি টাকার বেশি আয় বাড়বে এবং কমপক্ষে ১৫০ নাবিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে জাহাজ কেনা বিএসসির ইতিহাসে প্রথম। ব্যাংকে আমানত রাখার চেয়ে জাহাজে বিনিয়োগ বেশি লাভজনক—এই নীতিগত সিদ্ধান্তই আমাদের দ্রুত দুইটি জাহাজ আনার সুযোগ দিয়েছে।’
পূর্বের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি–র কাছ থেকে ৯৩৬ কোটি টাকায় দুইটি জাহাজ কেনার অনুমোদন দেয় সরকার। নির্মাণ করেছে চীনের শিপইয়ার্ড, সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।