মৌলভীবাজারে ফের ১২ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার
সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ইছবপুর এলাকা থেকে প্রায় ১২ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, বিভিন্ন স্থান থেকে একের পর এক অজগর উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ইছবপুর এলাকা থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবার শ্রীমঙ্গলের ইছবপুর এলাকায় দুপুরের সময় শ্রমিকরা ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। এ সময় তারা পাশের দেয়ালের ওপর বিশাল আকৃতির এক অজগরকে লম্বালম্বিভাবে শুয়ে থাকতে দেখতে পান। এতে ভয়ে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে চিৎকার শুরু করলে লোকজন বেড়িয়ে আসেন। এ সময় অজগরটি লোকজনের উপস্থিতি আঁচ করে স্থান পরিবর্তনের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও রাজদীপ দেব এসে কৌশলে অজগরটি উদ্ধার করে। অজগরটি লম্বায় প্রায় ১২ ফুটের মতো। পরে বন বিভাগের কাছে এ অজরটি হস্তান্তর করা হয়।
পরিবেশ বাদীরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দেওয়াতে ঘন ঘন অজগরসহ অন্য বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে বেড়িয়ে আসছে।
বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল।
তিনি আরও বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এর আগে রোববার (২৩ নভেম্বর) নোয়াগাঁও এলাকার একটি ধান ক্ষেত থেকে প্রায় ৫ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার করা হয়।