স্যালুট দেওয়া কি কোনো যোগ্যতা—প্রশ্ন আব্দুন নূর তুষারের
সংগ্রহীত ছবি
ঢাকা-৮ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়নপত্র নেওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে স্যালুট দেওয়া আলোচিত সেই রিকশাচালক নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) কালের কণ্ঠের ‘কালের সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এক টক শোতে অংশ নিয়ে ওই রিকশাচালকের মনোনয়নপত্র নেওয়ার ব্যাপারে কথা বলেন তিনি।
আব্দুন নূর তুষার বলেন, রিকশাচালক ভাই যিনি মনোনয়ন তুলেছেন, এই আন্দোলনে (জুলাই গণ-অভ্যুত্থান) তার অবদান নিশ্চয়ই আছে হয়ত। কিন্তু আমরা দেখেছি, উনি একটা স্যালুট দিয়েছিলেন।
এই ছবিটা ভাইরাল হয়েছিল। দাঁড়িয়ে একটা স্যালুট দিচ্ছেন। এই যে দৃশ্যকল্পের মধ্যে দিয়ে আন্দোলনের ভাষা প্রকাশ। আমি দেখলাম যে তাকে হেড টেবিলে ডাকা হলো।
এনসিপি হেড টেবিলে ডেকে তাকে বলল, আপনি স্যালুট দেন। স্যালুট দেওয়া কি কোনো যোগ্যতা? স্যালুট দেওয়ার যোগ্যতা না। ধরে নিলাম, উনি অত্যন্ত উপযুক্ত। কিন্তু বাকি ওই আসনে কি আর কোনো নমিনেশন পেপার বিক্রি হয়নি? সাইফ বলতে পারবে।
ওই আসনে কি আরো নমিনেশন বিক্রি হয়েছে? এ সময় সংলাপে উপস্থিত এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ ‘হ্যাঁ সূচক’ উত্তর দেন। তখন আব্দুন নূর তুষার বলেন, তারা কি হেড টেবিলে গিয়েছিলেন? তাদেরকে কি কেউ বলেছে? হাত তুলে দেখান। আপনিও হাত তোলেন। আপনি স্যালুট দেন। আপনি নেচে দেখান।
আপনি দাঁড়িয়ে দেখান। বলেনি। কিন্তু স্যালুটওয়ালা এটা পেয়েছে। কেন পেয়েছে? কারণ ভাইরাল সংস্কৃতি। আমরা একটা ভাইরাল রাজনীতিতে চলে গিয়েছি। লোকে আমাকে চিনল, মানে কি আমি ভালো রাজনীতিবিদ? আর চিনল না মানে আমি রাজনীতি বুঝি না?
তিনি বলেন, কথা কিন্তু ছিল মেধার ভিত্তিতে, সবকিছু মেধার ভিত্তিতে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, যারা বলল কোটা না মেধা, তারা শেষ পর্যন্ত কোটাও না, মেধাও না- স্যালুটের ভিত্তিতে একজনকে হেড টেবিলে ডেকে একদম সেরা নেতৃত্বের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে তাকে বলল আপনি স্যালুট দেন। ভোটার হিসেবে আমার প্রশ্ন, উনি ভালো স্যালুট দেয় সেজন্য উনাকে বেছে নেব না কি উনার কথাবার্তা শুনে উনাকে বেছে নেব? ওইখানে যে আরো প্রার্থী আছেন, ওইখানে ওসমান হাদি আছেন আমরা জানি এবং মির্জা আব্বাস হবেন, এটা আমরা জানি। তাহলে মির্জা আব্বাস, ওসমান হাদি এবং আমার যে ভাইজান- এই তিনজনের মধ্যে থেকে আমরা কোন প্রতিযোগিতা তাদের মধ্যে চাইব? তিনজনই স্যালুট দেবে? যে ভালো দেবে, তাকে বেছে নেব? না কি তিনজনই রিকশা চালাবে, তাকে বেছে নেব? না কি তিনজনকে শ্রমিক হতে হবে, তাকে বেছে নেব?
তিনি আরো বলেন, সংসদ নিয়ে আমি এই পর্যন্ত যত জায়গায় আলোচনায় গিয়েছি, আমাকে যে আর্গুমেন্টটা করা হয়েছে, সংসদ আইন প্রণেতাদের জায়গা। এখানে পিআর দিতে হবে। সংসদ পুল-কালভার্টের প্রতিশ্রুতির জায়গা না। টাকা বরাদ্দের জায়গা না। এলাকার উন্নয়ন দেখার দায়িত্ব সংসদ সদস্যের না। আমাকে একটা জিনিস বলেন, এই ভাইজান আজকে রিকশা চালাচ্ছেন, হয়ত ওই এলাকাতে থাকেন। কালকে যদি এখান থেকে রিকশা উঠে যায়, উনি কি ওই এলাকাতেই থাকবেন? ওই এলাকাতে উনি যে সুযোগ-সুবিধাগুলার কথা কল্পনা করছেন, ওইটাই কি ওই এলাকার জনগণের সুযোগ সুবিধার চাওয়া? আর উনি যদি আইন প্রণয়নই করেন, তাহলে আমরা একটা এমসিকিউ করি। আমরা জানি যে সংবিধান উনি বোঝেন কি না, আইন বোঝেন কি না, রুলস অফ প্রসিডিউর বোঝেন কি না, সংসদের যে নিয়ম কানুন সেগুলো বোঝেন কি না?