পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য চর্চায় চুয়েটে আন্তর্জাতিক সম্মেলন
সংগৃহীত
পরিবেশবান্ধব ও টেকসই স্থাপত্যচর্চার অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) দুই দিন ধরে হয়ে উঠেছিল বৈশ্বিক স্থপতি ও গবেষকদের জ্ঞান–বিনিময়ের প্রাণকেন্দ্র। ৪ ও ৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত “3rd International Conference on Green Architecture” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের শতাধিক বিশেষজ্ঞ অংশ নিয়ে সবুজ ভবিষ্যৎ নির্মাণে স্থাপত্যের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও গবেষণা উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে চুয়েট ও বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের গ্রীন আর্কিটেকচার সেল। এতে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং পেশাজীবীরা অংশ নেন।
দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ১৬টি টেকনিক্যাল সেশন, আন্তর্জাতিক পিএইচডি রিসার্চ সেমিনার, পোস্টার প্রদর্শনী এবং পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যকেন্দ্রিক পাঁচটি বিশেষ কর্মশালা। জমা পড়া ১৫০টি প্রবন্ধের মধ্যে ৮০টির বেশি উপস্থাপন ও ৪০টিরও বেশি পোস্টার প্রদর্শন করা হয়।
৪ ডিসেম্বর চুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, তরুণরাই টেকসই বাংলাদেশের প্রকৃত নির্মাতা। তাদের গবেষণা, উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীলতা ভবিষ্যতের বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার প্রধান শক্তি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান, বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. এস. এম. নাজমুল ইমাম, সম্মেলনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশিকুর রহমান জোয়ার্দার, বুয়েটের অধ্যাপক ড. জেবুন নাসরিন আহমেদ, চুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক কানু কুমার দাশ এবং সম্মেলনের সেক্রেটারি ও চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সজল চৌধুরী।
সম্মেলনের অন্যতম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ড. মাসা নোগুচি অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, প্রথমবার বাংলাদেশে এসে এমন প্রাণবন্ত সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। এ ধরনের আয়োজন খুব কমই দেখা যায়। আমি ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে চাই।
এদিকে সম্মেলনের সাথে সমান্তরালে অনুষ্ঠিত স্থাপত্য শৈলী প্রদর্শনীতে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা নিজেদের নকশা, সৃজনশীল ভাবনা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প তুলে ধরেন, যা উপস্থিত অতিথি ও গবেষকদের প্রশংসা কুড়ায়।