কারো নাম রুবাবা রাখা যাবে?
ছবি: সংগৃহীত
আমার নাম সুবর্ণা নাজনিন। আমি রাজধানীর ডেমরা এলাকায় থাকি। আমার তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে। তার নাম রুবাবা। সম্প্রতি আমার এক আত্মীয়া বলেছেন, রুবাবা নাম রাখা নাজায়েজ। কেননা এটি রব্ব শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ ঈশ্বরী বা নারী খোদা। আমার জানার বিষয় হলো, রুবাবা নামের অর্থ কি এবং কারো নাম রুবাবা রাখার বিধান কি?
প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, রুবাবা শব্দটি ‘রব্বুন’ (প্রতিপালক) শব্দ থেকে গঠন করা হয়নি। কেননা রব্বুন শব্দ থেকে গঠন করা হলে তার উচ্চারণ হতো রিবাবা। রিবাবা শব্দের অর্থ রাজত্ব ও ক্ষমতা। শব্দটিতে যদি ‘রাবাবা’ পড়া হয়, তবে তা হবে রাবাব শব্দের এক বচন, যার অর্থ বীণা জাতীয় বাদ্যযন্ত্র অথবা সাদা মেঘ। সুতরাং অর্থের বিচারে রিবাবা বা রাবাবা উভয় নামই রাখার সুযোগ আছে। একজন সম্মানিত নারী সাহাবির নাম ছিল রাবাবা। তার পূর্ণ নাম রাবাবা বিনতে নোমান। তিনি বিখ্যাত সাহাবি সাআদ বিন মুআজ (রা.)-এর ফুফি ছিলেন। তিনি নবীজি (সা.)-এর নিকট ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বাইআতে অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে মিল রেখে শিশুর নাম রাবাবা রাখা যায়।
শব্দটিকে রুবাবা পড়া হলে অর্থ হয় এমন ছাগল যা বাচ্চা জন্ম দিয়েছে অথবা যার বাচ্চা মারা গেছে, শক্ত গিড়া, প্রয়োজন, অনুগ্রহ ও দয়া ইত্যাদি। অর্থের বিচারে রুবাবা নাম রাখা নাজায়েজ নয়, তবে শব্দটির বিশেষ কোনো মাহাত্ম্য বা সৌন্দর্য নেই। (কামুসুল মুহিত, পৃষ্ঠা ৮৭; তাজুল উরুস : ২/৪৭০; আল ইসাবা : ৮/১৩১)
আল্লাহ সর্ববিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।