বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া কীসের লক্ষণ
ছবি: সংগৃহীত
ঘুম মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় চাহিদা। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত চাপ, অনিয়মিত রুটিনের পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের ঘাটতিও ঘুমের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেহে নির্দিষ্ট ভিটামিনের অভাব হলে ঘুম কমে যাওয়া, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা অনিদ্রার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন ডি–র ঘাটতি ঘুমে প্রভাব ফেলে
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ঘুম কম হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ভিটামিন ডি–র ঘাটতি। এই ভিটামিন শুধু হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, বরং দেহের ঘুম–জাগরণের প্রাকৃতিক ছন্দ বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি কম থাকলে ঘুমের মান কমে যায় এবং ঘুমের সময়ও কমে আসে।
ভিটামিন বি১২ থেকেও হতে পারে ঘুমের সমস্যা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন হলো ভিটামিন বি১২। এই ভিটামিন মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে সহায়তা করে, যা রাতের বেলায় ঘুম আনতে জরুরি। বি১২-এর ঘাটতি থাকলে ঘুম দেরিতে আসে, আবার সহজে ঘুম ভেঙেও যেতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম ঘাটতিও কম ঘুমের কারণ
যদিও ম্যাগনেসিয়াম ভিটামিন নয়, তবুও ঘুমের মানে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। ম্যাগনেসিয়াম শরীরকে শিথিল করে এবং নার্ভ সিস্টেমকে শান্ত রাখে। এর ঘাটতি থাকলে দেহে উত্তেজনা বেড়ে যায়, যা অনিদ্রার কারণ হতে পারে।
কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
- রাতের ঘুম দেরিতে আসে
- অল্পতেই ঘুম ভেঙে যায়
- পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি
- মনোসংযোগ কমে যাওয়া
- শরীরে ব্যথা বা মেজাজ খারাপ থাকা
ভিটামিন ঘাটতি পূরণে করণীয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
- রোদে ১৫–২০ মিনিট থাকা ভিটামিন ডি–এর সবচেয়ে সহজ উৎস।
- দুধ, ডিম, মাছ, ফোর্টিফায়েড খাবার নিয়মিত খেলে ঘাটতি কমে।
- বি১২ পেতে মাংস, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার ও সাপ্লিমেন্ট কার্যকর।
- পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘুম কম হওয়া শুধু ক্লান্তির কারণ নয়, দীর্ঘ মেয়াদে হৃদরোগ, স্ট্রেস, স্মৃতিশক্তি হ্রাসসহ নানা জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে ভিটামিনের ঘাটতি আছে কি না তা পরীক্ষা করানো উচিত।