নিজের জমিতে দশ জাতের ধান লাগিয়ে গবেষণা করছেন কৃষকেরা

নিজের জমিতে দশ জাতের ধান লাগিয়ে গবেষণা করছেন কৃষকেরা

সংগৃহীত ছবি

ধানখেতই যেন হয়ে উঠেছে গবেষণাগার। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কৃষকেরা নিজেদের জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান রোপণ করে ফলন, খরচ ও রোগবালাইয়ের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করছেন। এর মাধ্যমে কোন জাতের ধান বেশি উৎপাদনশীল, কম খরচে চাষযোগ্য এবং রোগ প্রতিরোধী—তা নিজের চোখে দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা।

সুলতানপুর গ্রামের কৃষাণি পারভীন আক্তার নিজের জমিতে একসঙ্গে ১০ জাতের ধান রোপণ করে তুলনামূলক পরীক্ষা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি মাটি পরীক্ষা করে ধান রোপণ ও প্রচলিত পদ্ধতিতে রোপণের ফলনের পার্থক্যও পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। এ ছাড়া পাতা ও কুশি কর্তনের কৌশল প্রয়োগ করে পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার অভিজ্ঞতাও নিচ্ছেন।

পারভীন আক্তার বলেন, ‘আগে কখনো ধান রোপণের আগে মাটি পরীক্ষা করিনি। প্রশিক্ষণে সেটি শিখেছি। এতে ফলনের যে পরিবর্তন দেখলাম, তা সত্যিই আশ্চর্যজনক। পাতা ও কুশি কর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ অনেক কম ছিল। ফলে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়নি। খরচ কমেছে, ফলনও বেড়েছে।’

একই গ্রামের কৃষক ওবায়দুল্লাহ খন্দকার বলেন, ‘দশ জাতের ধান রোপণ করে বুঝতে পারছি কোন জাত বেশি ফলন দেয়। আগামী মৌসুমে আমরা সেই জাতই বেশি আবাদ করব। বীজ সংরক্ষণের পদ্ধতিও হাতে-কলমে শিখেছি, এতে নিজেদের বীজ নিজেরাই সংরক্ষণ করতে পারব।’

সরেজমিনে দেখা যায়, সুলতানপুর গ্রামের লুতু ভূঁইয়া বাড়িতে উঠানে পাটি পেতে বসে কৃষক-কৃষাণিদের আধুনিক কৃষির নানা কলাকৌশল শেখাচ্ছেন দেবিদ্বার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায়। পরে ধানখেতে নিয়ে গিয়ে ব্যবহারিকভাবে এসব কৌশল দেখানো হয়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল’, যেখানে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

দেবিদ্বার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বানিন রায় বলেন, ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুলের মাধ্যমে কৃষকদের ধানের আধুনিক কলাকৌশল হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে। সুলতানপুর গ্রামে ১৮টি প্লটে শিখন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি ধানের জাত পরীক্ষা, পাতা ও কুশি কর্তন, বিভিন্ন বয়সের চারা রোপণ, দুটি সার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, আইপিএম ও আইসিএম প্লট।’

তিনি বলেন, কৃষকেরাই যেন নিজের জমিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—এটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।