ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসন বঞ্চিতের পর এবার মনোনয়ন পাওয়া মান্নানের ফরম সংগ্রহ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসন বঞ্চিতের পর এবার মনোনয়ন পাওয়া মান্নানের ফরম সংগ্রহ

সংগ্রহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতা কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের ঠিক তিন দিন পর এবার প্রাথমিকভাবে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া অ্যাডভোকেট এম এ মান্নানের নামে একটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে রবিবার (২১ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফরম সংগ্রহ করেন উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন। 

এসময় স্থানীয় বিএনপির ‘মান্নান’ গ্রুপের অনুসারী নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন।বিকেলে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে কিছুদিন আগে বিএনপি থেকে প্রাথমিকভাবে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান।

কিন্তু এ মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই উপজেলায় বিভক্ত থাকা স্থানীয় বিএনপির একাধিক গ্রুপ এ মনোনয়নের বিরোধীতা করে বিগত দিনে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, ঝাড়ু মিছিল, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।

একপর্যায়ে এম এ মান্নান ব্যতীত বিএনপির সাতজন প্রার্থী একত্রিত হয়ে ‘একমঞ্চ’ থেকে অ্যাডভোকেট মান্নানের প্রাথমিক মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিশাল জনসমাবেশও করে।

এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দকে এ নিয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

কিন্তু চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার আগেই গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) আকস্মিকভাবে এ আসনে ওই সাত প্রার্থীর অন্যতম প্রার্থী ‘তাপস’ গ্রুপের প্রধান, মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক, নবীনগরের চারবারের সাবেক সাংসদ মরহুম কাজী মো. আনোয়ার হোসনের ছেলে, কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের নামে একটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তাঁর ঘনিষ্ট অনুসারী সাবেক মেয়র মাইনুদ্দিন মাইনু। এ সময় তাপস গ্রুপের শীর্ষ নেতারা সেদিন স্বতঃস্ফুর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিএনপিসহ স্থানীয় বিভিন্ন মহলে তখন আলোচনার ব্যাপক ঝড় ওঠে।

এ ঘটনার তিন দিন পর রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া অ্যাডভোকেট এম এ মান্নানের পক্ষে নির্বাচন অফিস থেকে আরেকটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হলে বিষয়টি নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

এ নিয়ে সন্ধ্যায় অ্যাডভোকেট এম এ মান্নানের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী মান্নান ভাই ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি অফিস থেকে দলীয় ফর্মও সংগ্রহ করেছেন। সুতরাং এ আসনে যতজনই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন না কেন, বিএনপির দলীয় প্রার্থী একজনই। আর তিনি হলেন আমাদের প্রিয় নেতা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান।’

পরে এ বিষয়ে নবীনগরের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিকের সঙ্গে কথা বললে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলীয় প্রার্থীর বিষয়টি নিয়ে এখন কিছুই বলা যাবে না।

তবে রবিবার  অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান সাহেবের পক্ষে নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়ন ফরমটি সংগ্রহ করেন কামাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। আর এ নিয়ে এখন পর্যন্ত এই আসনে দুটি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হলো।’

তবে এক প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাছে মনোনয়ন ফরমগুলো জমা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা কিছুই বলতে পারব না। তবে জমাকৃত ওইসব মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলের যথাযথ কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই চূড়ান্তভাবে বলতে পারব, কে কোন দলের প্রার্থী, নাকি মূলত স্বতন্ত্র প্রার্থী?’