কুয়াশায় ঢেকে গেছে কলাপাড়া, বাড়ছে শীতের তীব্রতা
ফাইল ছবি
সমুদ্র উপকূলীয় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘন কুয়াশার সঙ্গে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। শুক্রবার সকাল থেকে পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকায় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বেলা ১১টা পর্যন্তও সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে দিনের বেলাতেও যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। হিমেল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কলাপাড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। অনেক স্থানে কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা নেমে আসে ৫০ মিটারের নিচে।
স্থানীয়রা জানান, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও গভীর সমুদ্রে থাকা জেলেরা। পাশাপাশি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষদের। শীত নিবারণের জন্য অনেককে খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু ও বয়স্ক।
পৌর শহরের নাচনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা যতীন বিশ্বাস বলেন, ‘এই শীতে একেবারে কাবু হয়ে পড়েছি। খুব প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হতাম না। শরীরে গরম কাপড় পেঁচিয়ে বাজারে এসেছি।’
ঢাকা থেকে কুয়াকাটাগামী বাসচালক শাজাহান জানান, রাতের কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। আরেক বাসচালক হাসান মিয়া বলেন, ‘কুয়াশা এত বেশি যে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।’
ভ্যানচালক জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে ভ্যান চালানো খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। যাত্রীও কম।’
কলাপাড়া লঞ্চঘাটের শ্রমিক সোহান মিয়া জানান, আগের দিনের তুলনায় শীত ও কুয়াশা আরও বেড়েছে। কুয়াশার কারণে ঢাকা থেকে আসা লঞ্চ নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সকাল থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে বেলা বাড়লে রোদ উঠলে কাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন তারা।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব সুখী জানান, আগামী কয়েকদিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার ঘনত্ব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শীতের তীব্রতাও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।