রেকর্ড দাম বৃদ্ধির পর অস্ট্রেলিয়ায় ব্যস্ত স্বর্ণ অনুসন্ধানকারীরা
ছবিঃ সংগৃহীত।
বিশ্ববাজারে প্রতিনিয়ত স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়াতে স্বর্ণক্ষেত্রগুলোতে আবারও ফিরছে সোনাখোঁজার উন্মাদনা।এই অঞ্চলটি স্বর্ণের টুকরোর জন্য বিশ্বের অন্যতম সম্ভাব্য অঞ্চল হিসাবে পরিচিত।
সম্প্রীতি অবসরপ্রাপ্ত থেকে শুরু করে তরুণ নির্মাণকর্মী, এমনকি পরিবার নিয়ে প্রকৃতিতে বেরিয়ে পড়া সাধারণ মানুষও ভাগ্য বদলের আশায় মাঠে নেমেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার কমানো, ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি শিথিলের প্রত্যাশা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক ক্রয় এবং শক্তিশালী ইটিএফ বিনিয়োগ প্রবাহের ফলেই চলতি বছর স্বর্ণের দাম এমন বেড়েছে বলে।
সমীক্ষা বলছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম দাঁড়াবে ৪ হাজার ৯০০ ডলার। চলতি বছরে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছাড়ায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার। যা ১৯৭৯ সালের পর এক বছরে সর্বোচ্চ। প্রায় ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৪৯ ডলার।
যদিও তা বড়দিনের পর নতুন বছর উদযাপন সামনে রেখে দাম কিছুটা কমে।
ধারণা করা হচ্ছে এ বৃদ্ধি ২০২৬ সালেও অব্যাহত থাকবে। বিশ্বখ্যাত স্বর্ণ সমীক্ষা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান শ্যাক্সের সমীক্ষা বলছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়াবে আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৯০০ ডলারে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের চাহিদা বেড়েই চলেছে।
আর সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়াতে স্বর্ণ অনুসন্ধানকারীরা ব্যস্ত নতুন স্বর্ণের খোজে। ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক গোল্ডফিল্ডগুলোতে স্বর্ণের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এমনই একজন অনুসন্ধানকারী কেলি স্মিথ। খুঁজতে খুঁজতে মেটাল ডিটেক্টরে হঠাৎ সন্ধান মেলে স্বর্ণের। কেলি স্মিথ বলেন, আমি ঝোপের মধ্য দিয়ে হেঁটে বন্যপ্রাণী দেখতে পছন্দ করি, এবং যদি আমার ভাগ্য ভালো হয়, তাহলে একটু স্বর্ণও খুঁজে পাই।
কেলি স্মিথের মতো অস্ট্রেলিয়াজুড়ে আরও অনেকেই এমন স্বর্ণের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
বিভিন্ন বয়সের পেশাজীবীরাও এখন ব্যস্ত স্বর্ণের খোঁজে। ভিক্টোরিয়াতে স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে খননের পারমিট কিনতে হয় খনি শ্রমিকদের। যার মূল্যও দিন দিন বাড়ছে। এরই মধ্যেই ভিক্টোরিয়াতে ১ লাখেরও বেশি সক্রিয় খনি শ্রমিকের পারমিট রয়েছে।
তবে অনুসন্ধানকারীরা অনেকটা সখের বশেই ব্যস্ত সময় পার করেন এসব স্বর্ণের খোঁজে। তাদের এই অনুসন্ধানে একদিকে যেমন খোঁজ মিলছে স্বর্ণের, অন্যদিকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে পাচ্ছেন এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি।