পুরোনো জিমেইল ঠিকানা বদলানোর সুযোগ দিচ্ছে গুগল

পুরোনো জিমেইল ঠিকানা বদলানোর সুযোগ দিচ্ছে গুগল

সংগ্রহীত ছবি

কৈশোরে তৈরি করা অনেক জিমেইল ঠিকানাই আজও ব্যবহার করছেন অসংখ্য মানুষ। সময়ের সঙ্গে নাম, পছন্দ বা পেশা বদলালেও ইমেইল ঠিকানাটি রয়ে গেছে আগের মতোই। এই সমস্যার সমাধানে নতুন একটি সুবিধা আনছে গুগল।

গুগল ধাপে ধাপে কিছু ব্যবহারকারীকে জিমেইল ঠিকানা পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে। সম্প্রতি গুগলের একটি সহায়তা পেজে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পেজটি প্রথমে হিন্দি ভাষায় প্রকাশিত হয়, পরে গুগল ট্রান্সলেশনের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসে।

তবে এটি পুরোপুরি পুরোনো ঠিকানা মুছে ফেলার ব্যবস্থা নয়। বরং ব্যবহারকারীরা একটি নতুন জিমেইল ঠিকানা যোগ করতে পারবেন। পুরোনো ঠিকানাটি থাকবে ‘অ্যালিয়াস’ হিসেবে। অর্থাৎ, আগের ঠিকানায় পাঠানো ইমেইলও সরাসরি ইনবক্সে এসে পৌঁছাবে।

নতুন ঠিকানাটিই হবে প্রধান জিমেইল ঠিকানা। তবে পুরোনো ঠিকানা ব্যবহার করেও অ্যাকাউন্টে লগইন করা যাবে। ইমেইল, ছবি, ড্রাইভের ফাইলসহ সব ডেটা অক্ষত থাকবে। কোনো তথ্য হারানোর আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে গুগল।

এই সুবিধার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতাও থাকছে। এক বছরে একবারের বেশি জিমেইল ঠিকানা পরিবর্তন করা যাবে না। একটি অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ তিনটি নতুন ঠিকানা যোগ করার সুযোগ থাকবে। এর বেশি হলে আর নতুন ঠিকানা যুক্ত করা যাবে না।

চাইলেই ব্যবহারকারীরা আবার পুরোনো ঠিকানায় ফিরে যেতে পারবেন। সে ক্ষেত্রেও ডেটা নিরাপদ থাকবে। তবে গুগল সতর্ক করেছে, কিছু ক্ষেত্রে ক্রোমওএসে সেটিংস–সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ঠিকানা পরিবর্তনের আগে ব্যাকআপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে যারা অল্প বয়সে কার্টুন, গেম বা মজার নামে জিমেইল খুলেছিলেন, তাদের জন্য এই সুবিধা বড় স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে। পেশাগত জীবনে অনেকের কাছেই এসব ঠিকানা বিব্রতকর হয়ে ওঠে। নাম পরিবর্তন করেছেন—এমন ব্যবহারকারীরাও এতে উপকৃত হবেন।

তবে এখনো সব ব্যবহারকারীর জন্য এই সুবিধা চালু হয়নি। ইংরেজি ভাষার গুগল সাপোর্ট পেজেও এখনো এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেখা যাচ্ছে না। দ্য ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিচারটি ধাপে ধাপে চালু করা হবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাবে।

এ বিষয়ে গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও ব্যবহারকারীদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিনের জিমেইল ব্যবহারকারীরা এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।

ডিজিটাল পরিচয় হালনাগাদ করার এই সুযোগ অনেকের জন্য সময়োপযোগী হলেও কবে নাগাদ সবাই এই সুবিধা পাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।