শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি, তীব্র ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত
ফাইল ছবি
মৌলভীবাজারে জেঁকে বসেছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে চারপাশ, আর সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
শীতের এই তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলেছে জেলার চা শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষদের। পেটের তাগিদে কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই ভোরে কাজে বের হতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, ঘন কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন, যার ফলে যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
তীব্র ঠান্ডায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু ও শিশুদের মধ্যে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আনিসুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সঙ্গে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে।
এই অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
সকালে কুয়াশার মধ্যে হাতে পলিথিন মুড়িয়ে পাতা তুলতে দেখা গেছে চা শ্রমিকদের।
শ্রীমঙ্গল ভুরবুড়িয়া চা বাগানের শ্রমিক বাসন্তী রবিদাস বলেন, এই ঠান্ডার মধ্যে চা পাতা তুলতে গিয়ে হাত বরফ হয়ে যাচ্ছে। তবুও পাতা তুলতে হবে, না হলে মিলবে না হাজরি (মজুরি)।
চা বাগান এলাকায় গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা। পোষা প্রাণীদের কাপড় দিয়ে ঢেকে শীত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন তারা। কুয়াশার কারণে দিনের বেলা গাড়ি চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
শ্রীমঙ্গল টুরিস্ট জিপের চালক বাচ্চু মিয়া বলছিলেন, কুয়াশার মধ্যেই পর্যটকদের নিয়ে বের হতে হচ্ছে। তবে পর্যটকরা শীত কষ্ট পাচ্ছেন না বরং তারা উপভোগই করছেন।