চট্টগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু
ফাইল ছবি
চট্টগ্রামে পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিরসরাই উপজেলায় তিনজন এবং শুক্রবার সকালে কর্ণফুলী উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরবাজার ধুমঘাট সেতু এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাঠবোঝাই ট্রাকের পেছনে ঢাকামুখি যাত্রীবাহী সেন্টমার্টিন ট্রাভেলসের দ্বিতল বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। এ সময় বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় বাসের ৮-১০ জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদের চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা হলেন- মীরসরাই উপজেলার মসজিদিয়া এলাকার নুর আলমের ছেলে নাফিজ আহমেদ অয়ন (১৬), চট্টগ্রাম নগরের চাঁদগাঁও থানার মো. হেলালের মেয়ে ছাবিতুন নাহার (২৫) এবং গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার মৃত নয়া ব্যাপারীর ছেলে মিন্টু মিয়া (৪৫)। এর মধ্যে নাফিজ আহমেদ অয়ন নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন।
জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু ও আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বিয়ের এক সপ্তাহ আগে যুবকের মৃত্যু
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর ফাজিলখাঁর হাট এলাকার পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী (পিএবি) সড়কে শুক্রবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী মো. আলী আব্বাস (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আগামী শুক্রবার সেই যুবকের বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত যুবক আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ঝিওরী গ্রামের গোলাম শরীফের বাড়ির মো. মুছার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক আত্মীয়ের নিমন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরে গিয়েছিলেন। সকালে নিজের মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে ফিরছিলেন। সকাল ৭টার দিকে তিনি ফাজিলখাঁর হাট এলাকায় পৌঁছালে একটি গাড়ি তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত যুবকের ভাই আলী আকবর বলেন, গত বছরের ৩০ মার্চ স্ত্রী-সন্তানসহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে স্ত্রী মারা গেছিলেন। এক বছর পার না হতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ভাইকে হারালাম।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর জামান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।