ইবিতে নিয়োগ পেতে যাচ্ছে ফ্যাসিবাদী এমপির আপন ভাইয়ের পুত্রবধূ
ফাইল ছবি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসী বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছে সাবেক আওয়ামী এমপির আপন ভাইয়ের পুত্রবধূ আফিয়া ইবনাত শিমকি। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত নিয়োগ বোর্ডে তাকে নিয়োগ দিতে একাধিক মহলকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আফিয়া ইবনাত শিমকি মাগুরা-১ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি এ টি এম আব্দুল ওয়াহাবের আপন ভাইয়ের পুত্র সাজিদ আল নূরের স্ত্রী। সাজিদ দীর্ঘদিন যাবত ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তবে আফিয়াকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সুপারিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের তদবির রয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া আজকের অনুষ্ঠিত নিয়োগ বোর্ডে লিখিত পরীক্ষায় আফিয়া মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হলে একাধিক চাকরি প্রত্যাশী বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তোলেন৷ তাকে নাম্বার টেম্পোরিং করিয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করারও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে আফিয়া ইবনাত শিমকি আবেদন পত্রে তার ব্যক্তিগত পরিচয় ও মাগুরার বাসা ঠিকানার তথ্য গোপন করেন৷ তার এডমিট কার্ড সূত্রে, তিনি ঢাকা বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেন। এসব অভিযোগ এবং আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ বলেন, শাখা ছাত্রদলের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেয় তাহলে এর পরিমাণ অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। আমরা জুলাইয়ের রক্তের সাথে বেঈমানি হতে দিবো না৷ প্রশাসনকে অনুরোধ করবো কোনো ফ্যাসিস্টকে নিয়োগ না দেওয়ার জন্য। আর দিয়ে থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবো।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ও সাবেক সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করে তাহলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। আমাদের হাজার হাজার শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি করতে দিবো না।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং নিয়োগ বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার হাত দিয়ে আওয়ামী লীগের কেউ ই নিয়োগ পাবে না এটা শতভাগ লিখে রাখো। আমি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যেকোনো শিক্ষার্থী দেখা করতে চাইলে দেখা করতে তো মানা নেই। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ এসেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ কে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলে এবং হোয়াটসঅ্যাপে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।