চাঁদে বিলাসবহুল হোটেল, শুরু হলো বুকিং নেওয়া
ছবিঃ সংগৃহীত
কল্পবিজ্ঞান সিনেমার দৃশ্যগুলো এবার বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে পা রাখার কয়েক দশক পর মানুষের জন্য এখন সেখানে ছুটি কাটানোর সম্ভাবনা আসছে। একসময় যা কেবল স্বপ্ন ছিল, ২০৩২ সালের মধ্যে তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। পৃথিবী থেকে লক্ষকিলোমিটার দূরে মহাশূন্যের নির্জনতায় গড়ে উঠছে বিলাসবহুল আবাসন, যা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী ও আকাশছোঁয়া ব্যয়ের সামর্থ্য থাকা পর্যটকদের জন্য এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ ‘গ্যালাকটিক রিসোর্স ইউটিলাইজেশন’ ঘোষণা করেছে যে, তারা চাঁদে বিশ্বের প্রথম স্থায়ী হোটেল তৈরি করছে। এই হোটেলে পর্যটকরা দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারবেন। ইতিমধ্যেই প্রজেক্টের জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে, যেখানে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের নামী প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন—এনভিডিয়া, স্পেসএক্স, ওয়াই কম্বিনেটর এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা ‘অ্যান্ডুরিল’।
হোটেলের নেপথ্যে রয়েছেন ২১ বছর বয়সী তরুণ প্রকৌশলী স্কাইলার চ্যান, যিনি ইতিমধ্যেই বুকিং নেওয়া শুরু করেছেন। তবে এই বিলাসবহুল অভিজ্ঞতার জন্য গুনতে হবে বিশাল অংকের অর্থ।
অগ্রিম বুকিং: যারা আগেভাগে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে চান, তাদের দিতে হবে ১০ লাখ মার্কিন ডলার।
প্রতি রাতের ভাড়া: দাবি করা হচ্ছে, এই হোটেলে এক রাত থাকার খরচ শুরু হবে ৪ লাখ ১০ হাজার ডলার।
আবেদন ফি: যারা এই ‘লুনার হোটেল’ বা চন্দ্রিমা হোটেলে থাকতে আগ্রহী, তাদের আবেদন ফি হিসেবেই দিতে হবে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার মার্কিন ডলার।
হোটেলের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর নির্মাণশৈলী। কোম্পানিটি জানিয়েছে, পৃথিবী থেকে কোনো রড বা সিমেন্ট আনা হবে না; বরং চাঁদের মাটি ব্যবহার করে হোটেল তৈরি করা হবে। এর ফলে খরচ কমবে এবং হোটেল চাঁদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চাঁদে হোটেল নির্মাণ সফল হলে মহাকাশ পর্যটনে এক বিশাল বিপ্লব ঘটবে। এটি শুধু পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। আগামী এক দশকের মধ্যে মানুষ পৃথিবী ছাড়িয়ে সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহেও স্থায়ী বসতি গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারে।