পাবনার ফরিদপুরে স্কুলছাত্রী সুরাইয়া হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী আটক

পাবনার ফরিদপুরে  স্কুলছাত্রী সুরাইয়া হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী আটক

প্রতিকী ছবি

পাবনার ফরিদপুরে স্কুলছাত্রী সুরাইয়া হত্যার ঘটনায় লতিফ ও ডালিয়া দম্পতিকে আটক করে পাবনা ডিবি পুলিশ। আটক দুজনকে নিয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পাবনা কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে পাবনা ডিবি পুলিশ।

এর আগে রবিবার সকালে ফরিদপুর থানা পুলিশ জন্তিহার ও পার্শ্ববর্তী বিল নলুয়া গ্রাম সংলগ্ন বিল থেকে সুরাইয়ার হাত-পা ও মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে। শুরুতে ঘটনাটি সম্পূর্ণ রহস্যজনক মনে হলেও জেলা গোয়েন্দা শাখা পাবনা (ডিবি)-এর এসআই অসিত ও এসআই আ. লতিফের সমন্বয়ে গঠিত টিমের অভিযানে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিবি পুলিশ জানান, ভিকটিম কিশোরী সুরাইয়া সবুজ নামের এক কিশোরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিল এবং তাকে পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু প্রেমিক সবুজ আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় সুরাইয়ার মনে হয় সংসার শুরু করতে হলে অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

এই সুযোগকে কাজে লাগাতে এগিয়ে আসে সুরাইয়ার আপন চাচাতো বোন ডালিয়া ও তার স্বামী আব্দুল লতিফ। লতিফ শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ, বুকে সমস্যা থাকায় কোনো পরিশ্রমের কাজ করতে পারত না।

ফলে তাদের সংসারে চরম অভাব লেগেই থাকত।

সুরাইয়ার প্রেমের সম্পর্ক ও পালিয়ে বিয়ের বিষয়টি জেনে ডালিয়া ও লতিফ পরিকল্পনা করে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল ও ভীতু প্রকৃতির সুরাইয়ার দাদা-দাদির কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার। একই সঙ্গে তারা সুরাইয়া ও তার প্রেমিকের বিয়ে এবং নিজেদের সংসারের অভাব মেটানোর স্বার্থে একটি সাজানো অপহরণের ফন্দি আঁটে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার কয়েকদিন আগে সুরাইয়া, ডালিয়া ও লতিফ মিলে অপহরণের ছক তৈরি করে।

১৩ জানুয়ারি ডালিয়া বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে সুরাইয়াকে নিয়ে কাজিটোল এলাকায় আসে। সেখানে আগে থেকেই লতিফ অবস্থান করছিল। এরপর তিনজন মিলে মাঠের মধ্যে দিয়ে ফরিদপুর জন্তিহারে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে যায়।

সেখানে খাবারের সঙ্গে কৌশলে প্রায় ১০টি ঘুমের ওষুধ সুরাইয়াকে খাওয়ানো হয়। পরে ডালিয়া ও লতিফ বাড়ি ফিরে যায়।

গভীর রাতে তারা আবার ওই ঘরে গিয়ে দেখে সুরাইয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ। ততক্ষণে সে মারা গেছে।

ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং অপহরণের নাটক বলে চালিয়ে দিতে তারা মৃত সুরাইয়ার হাত-পা বেঁধে রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে পাশের একটি বিলে ফেলে দেয়।

পরবর্তীতে ১৭ জানুয়ারি লতিফের ব্যবহৃত একটি সিমকার্ড থেকে সুরাইয়ার দাদার কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়, যাতে অপহরণের ঘটনা সত্য বলে মনে হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সব রহস্য উদঘাটিত হয় এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।