নিউ ইয়র্কের টেক্সটাইল প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের সরব উপস্থিতি
সংগ্রহীত ছবি
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল সোর্সিং প্রদর্শনী ‘টেক্সওয়ার্ল্ড ও অ্যাপারেল সোর্সিং নিউইয়র্ক ২০২৬’-এ সফলভাবে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠান। গত ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জেভিটস কনভেনশন সেন্টারে তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের সক্ষমতা তুলে ধরতে এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে এই অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বছর বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) বিশেষ সহায়তায় ১৩টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশ নেয়।
এর বাইরে প্যারামাউন্ট ইন্টারন্যাশনালসহ আরও দুটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে প্রদর্শনীতে স্টল বরাদ্দ নেয়। মেলায় অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— গোল্ডেন টেক্স, ব্লু অ্যাপারেলস, হীরা সোয়েটারস, পি এম সোর্সিং, এক্সকম ফ্যাশন, এ বি অ্যাপারেলস এবং ডিজাইন সোর্সিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধুনিক অ্যাপারেল, তৈরি পোশাক এবং ভ্যালু-এডেড টেক্সটাইলসহ বৈচিত্র্যময় পণ্য উপস্থাপন করে। বাংলাদেশের টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং গুণগত মানসম্পন্ন পণ্যের সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে বিশ্বস্ততা অর্জনই ছিল এই অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ডিজাইন সোর্সিং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুলাম মুস্তাফা বলেন, “টেক্সওয়ার্ল্ড নিউ ইয়র্ক আমাদের জন্য একটি মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম। বৈশ্বিক দর্শক ও শিল্প পেশাজীবীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং আমাদের উৎপাদন দক্ষতা উপস্থাপনের এটি একটি চমৎকার সুযোগ ছিল।’
প্রথমবারের মতো এই মেলায় অংশ নেওয়া লেনো টেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মারুফুর রহমান বলেন, ‘মেলার পরিবেশ এবং দর্শকদের উপস্থিতি বেশ আশাব্যঞ্জক। যদিও বেশিরভাগ অনুসন্ধান ছিল ছোট আকারের অর্ডারের জন্য, তবে এই অভিজ্ঞতা আমাদের আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য টেক্সওয়ার্ল্ড প্যারিস মেলায় অংশগ্রহণে দারুণ উৎসাহ দিচ্ছে।
’
নিউ ইয়র্কের এই প্রদর্শনীতে বিশ্বের নামী-দামী ব্র্যান্ডের প্রতিনিধি, সোর্সিং প্রতিষ্ঠান এবং পণ্য প্রস্তুতকারীরা অংশ নেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পোশাকের যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।