শেষ মিনিটের গোলে সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিল কাতার
সংগৃহীত ছবি
মুরাত ইয়াকিনের চেহারার দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। হতাশায় বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন সুইজারল্যান্ডের কোচ।
রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর আগমুহূর্তে গোল হজম করলে যা হয় আরকি!
২০২২ বিশ্বকাপে ব্রিল এমবোলোর গোলে ক্যামেরুনকে হারিয়ে শুভসূচনা করেছিল সুইজারল্যান্ড। সেই এমবোলোর গোলেই আজ সর্বশেষ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে হারানোর পথে ছিল সুইসরা।
কিন্তু বিধি বাম! ম্যাচের শেষ মিনিটে সমতা ফেরালেন বুয়ালেম খুখি। ৩৫ বছর বয়সী এই সেন্টার ব্যাকের গোলে সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিল কাতার।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারার লেভিস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হলো ১-১ সমতায়।
গতকাল ‘বি’ গ্রুপের অন্য দুই দল কানাডা ও বসনিয়া ১-১ গোলে ড্র করেছে। তাই এই গ্রুপে এখন চার দলেরই পয়েন্ট সমান ১ করে।
তবে আপাতত কাতারই ‘সবচেয়ে সুখী’ দল।
কারণ, এর আগে বিশ্বকাপে তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই হেরে যাওয়া দলটা আজ প্রথমবারের মতো হার এড়িয়ে পেয়েছে প্রথম পয়েন্ট।
অথচ শক্তিমত্তা, ইতিহাস, ফিফা র্যাংকিং—সবকিছুতেই সুইজারল্যান্ড ছিল ঢের এগিয়ে। মাঠের লড়াইয়েও তাই। কাতারি রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রেখে সুইসরা গোলের উদ্দেশে শট নিয়েছে ২৬টি, যার ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বলের দখল ছিল ৭০%।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল হজম করায় এসব পরিসংখ্যান ফিকে হয়ে গেল।
অধিনায়ক খুখি গোলটা করেছেন যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। লেফট ব্যাক হোমাম আহমেদ দারুণ এক ক্রস করেছিলেন সুইজারল্যান্ডের বক্সে। সেই ক্রসেই লাফিয়ে উঠে হেডে জাল কাঁপান খুখি।
এর আগে ম্যাচের ১৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেন ব্রিল এমবোলো। কাতারের গোলকিপার মাহমুদ আবুনাদা রেমো ফ্রেউলারকে নিজেদের বক্সে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। আবুনাদাকে হলুদ কার্ডও দেখান। স্পট কিক থেকে তাকে সহজেই পরাস্ত করেন এমবোলো।
এই গোল হজমে আবুনাদার দায় থাকায় অনেকে তাকে ‘ভিলেন’ ভাবতে পারেন। কিন্তু পরবর্তীতে একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে ভুল শোধরানোর চেষ্টা করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে খুখির গোলটা আবুনাদার মনে সবচেয়ে বেশি স্বস্তির বাতাস বইয়ে দিয়েছে।