সোনারগাঁওয়ে বিএনপির ছয় নেতা বহিষ্কার
ফাইল ছবি
সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের সমর্থকসহ ছয় বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন, জিয়াউল ইসলাম চয়ন, সদস্য খন্দকার আবু জাফর, সোনারগাঁ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি পনির ভূইয়া ও পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির রফিক।
গত ২১ জানুয়ারি রাতে সোনারগাঁয়ের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা বজলুর রহমান তার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। ওই সময় তার সাথে থাকা তিন থেকে চার জন নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনারগাঁ এলাকায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র মজুদ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করতে শোনা যায়।
এছাড়া ভিডিওতে বজলুর রহমানের পাশে বসা আরেক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, নির্বাচনের জন্য আমাদের আরও দুইটা অস্ত্র দরকার। এতে এলাকায় অবৈধ অস্ত্র মজুদের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েবসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা। গত ২৪ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে বজলুর রহমান ওরফে ডন বিজলুসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে র্যাব।
অন্যদিকে, বহিষ্কৃত অপর পাঁচ নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিরোধিতা করছেন। তারা সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম ও গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মাঝে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাংগঠনিক শক্তি অটুট রাখতে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।